বিখ্যাত বৈজ্ঞানিক ফটোগ্রাফি প্রতিযোগিতা 'স্মল ওয়ার্ল্ড ইন মোশন'-এর বিজয়ী একটি ভিডিও এখন বিতর্কের মুখে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহার করে ভিডিওটি তৈরি করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন একদল বিজ্ঞানী, যার ফলে নিকন কর্তৃপক্ষ বর্তমানে বিজয়ীর কাজটিকে পুনরায় মূল্যায়ন করছে। শক্তিশালী মাইক্রোস্কোপের মাধ্যমে তোলা ছবি ও ভিডিওর জন্য আয়োজিত এই প্রতিযোগিতাটি গত ১৫ বছর ধরে প্রতি বছর অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে।

চীনের ত্সিংহুয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ডক্টর নিং শু এই প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অধিকার করেন। তাঁর জমা দেওয়া সংক্ষিপ্ত ভিডিওটিতে একটি বিরল রোগে আক্রান্ত শিশুর শ্বাসনালীর ভেতরে 'সিলিয়া' নামক ক্ষুদ্র লোম সদৃশ কাঠামোর সঞ্চালন দেখানো হয়েছে বলে দাবি করা হয়। বিবিসির অনুরোধে ডক্টর শু কোনো মন্তব্য না করলেও, অনলাইনে তিনি প্রতিযোগিতার নিয়ম ভাঙার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। লিঙ্কডইনে নিকনের একটি পোস্টের প্রতিক্রিয়ায় তিনি জানান, ছবি প্রসেসিংয়ের ক্ষেত্রে এআই ব্যবহার করা হলেও তা প্রতিযোগিতার নিয়মের মধ্যেই ছিল। তাঁর কথা অনুযায়ী, এক্সপেরিমেন্টাল মুভি, সিলিয়া কিংবা তাদের সঞ্চালনের দৃশ্যগুলো তৈরি করতে এআই ব্যবহার করা হয়নি।

মাইক্রোস্কোপির ক্ষেত্রে স্যাম্পলে রঞ্জক ব্যবহার করে কৃত্রিমভাবে উজ্জ্বল রঙ তৈরি করা একটি সাধারণ বিষয় এবং প্রতিযোগিতায় এটি অনুমোদিত। ডক্টর শু স্বীকার করেছেন যে, রিকনস্ট্রাক্টেড গ্রে-স্কেল ছবিগুলোতে নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্যগুলো আলাদা করে চিহ্নিত করতে এবং দৃশ্যমান করতে এআই ব্যবহৃত হয়েছে।

তবে অন্যান্য বিজ্ঞানীদের পর্যবেক্ষণ ভিন্ন। তাদের দাবি, ভিডিওতে এমন কিছু আকৃতি এবং সঞ্চালন দেখা যাচ্ছে যা সাধারণ কোষের গঠন বা আচরণের সাথে মেলে না। এমনকি সিলিয়াগুলোর আকার স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বড় বলে মনে হচ্ছে। ফ্লোরিডা ইউনিভার্সিটির সহযোগী অধ্যাপক এডওয়ার্ড ফেলপস সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উল্লেখ করেছেন যে, কিছু কাঠামো হঠাৎ করে দৃশ্যমান হচ্ছে বা অদৃশ্য হয়ে যাচ্ছে, এবং কিছু সিলিয়া যেন শূন্য থেকে উদয় হচ্ছে। অন্যদিকে, ইউটি সাউথওয়েস্টার্ন মেডিকেল সেন্টারের পিএইচডি শিক্ষার্থী ইয়ান ডনোভান দাবি করেছেন, মূল ছবিতে একটি বিশেষ জলছাপ (watermark) রয়েছে যা নির্দেশ করে এটি এআই দ্বারা তৈরি। এর পাশাপাশি প্রতিযোগিতার দুই সাবেক বিচারকও ছবির সত্যতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

২০২৬ সালের প্রতিযোগিতায় পঞ্চম স্থান অধিকারী ডক্টর প্যাট্রিক হিকি জানান, এই পুরস্কারের আর্থিক মূল্য ৩,০০০ ডলারের চেয়ে এর স্বীকৃতি অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। বিজ্ঞান ও শিল্পের এক অনন্য সংমিশ্রণ এই প্রতিযোগিতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, যদি দেখা যায় বিজয়ীর ভিডিওটি এআই দিয়ে অন্যায়ভাবে পরিবর্তিত করা হয়েছে, তবে তা অন্য প্রতিযোগীদের জন্য অত্যন্ত অবিচার হবে। তাঁর মতে, প্রতিযোগিতার নিয়মে স্পষ্টভাবে বলা ছিল যে কোনো কিছু তৈরি করতে জেনারেটিভ এআই ব্যবহার করা যাবে না এবং অবশ্যই মাইক্রোস্কোপের মাধ্যমেই দৃশ্যটি ধারণ করতে হবে।

নিকন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ডক্টর শু তদন্তের সাথে পূর্ণ সহযোগিতা করছেন এবং প্রয়োজনীয় কারিগরি নথিপত্র প্রদান করেছেন। প্রতিষ্ঠানটি একটি বিবৃতিতে বলেছে, এই মুহূর্তে তারা নিয়ম লঙ্ঘনের কোনো প্রমাণ দেখছে না, তবে শীঘ্রই এ বিষয়ে চূড়ান্ত আপডেট দেওয়া হবে।