নেপালের মধ্যাঞ্চলীয় বাগমাতি প্রদেশের রসুয়া ও পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোতে আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের ঘটনায় ব্যাপক প্রাণহানি ও infrastructural ক্ষয়ক্ষতি দেখা দিয়েছে। নেপাল পুলিশ জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত ১৬২ জনের মৃত্যু নিশ্চিত হওয়া গেছে। পাঁচ শতাধিক মানুষ এখনো নিখোঁজ, যাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বিদেশি নাগরিক — বেশিরভাগই পর্যটক। রাস্তাঘাট, সেতু এবং একাধিক বিদ্যুৎ প্রকল্প সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে এই দুর্যোগে।
নুয়াকোট জেলার বাসিন্দা কল্পনা মল্লা জানান, আকস্মিক বন্যার তোড়ে তাঁর বাবা, মা, বোন এবং বোনের সন্তানরা সবাই ভেসে গেছেন। তিনি বলেন, "চোখের সামনে বন্যার স্রোতে আমার পরিবারের সব সদস্যকে হারিয়েছি। পালানোর কোনো সুযোগই ছিল না। এ বন্যা আমাদের সবকিছু কেড়ে নিয়েছে।" নিজের বেঁচে থাকার ঘটনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "আমার ছেলে সুগম হাত ধরে টেনে আমাকে একটি বাড়ির ছাদে তুলে প্রাণ বাঁচিয়েছে।" সুগম জানায়, সে আগে তার বোনকে নিজের ফোন দিয়েছিল নিরাপদ থাকতে ও সাহায্যের জন্য যোগাযোগের উদ্দেশ্যে। কিন্তু এখন বোনের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করা যাচ্ছে না এবং ফোনটিও বন্ধ — তার আশঙ্কা, বোনও বন্যার স্রোতে ভেসে গেছে।
একই অঞ্চলের আরেক বাসিন্দা গোমা পণ্ডিত জানান, বন্যায় তাঁর মহিষসহ সব গবাদিপশু ভেসে গেছে। "আমার কৃষিজমি, ১০ বস্তা শর্ষের বীজ, টন টন ভুট্টা ও ধান — সব শেষ। কিছুই অবশিষ্ট নেই," বলেন তিনি।
এদিকে, এই দুর্যোগের প্রভাব ছড়িয়েছে প্রতিবেশী দেশ চীনের তিব্বত অঞ্চলেও। সেখানে অন্তত তিনজনের মৃত্যু হয়েছে এবং ৫৫৮ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সিসিটিভির খবরে জানানো হয়েছে। নিখোঁজদের মধ্যে অন্তত ২৬০ জন বিদেশি নাগরিক।
বিশেষজ্ঞ ও কর্মকর্তারা বলছেন, বুধবার তিব্বত অঞ্চলে ভূমিকম্পের পরই এই আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের সূত্রপাত। যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ওই ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৪.৪ এবং উৎপত্তিস্থল ছিল নেপালের গোসাইকুন্ড হ্রদ থেকে ৪৭ কিলোমিটার উত্তরে। ৫,২০০ মিটার উচ্চতায় হিমবাহ ধসে পড়ার ফলে নদীর পানি আধা ঘণ্টার মধ্যে প্রায় ৩০ ফুট বেড়ে যায় বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই দুর্যোগকে ২০১৫ সালের প্রাণঘাতী ভূমিকম্পের পর নেপালের সবচেয়ে বড় প্রাকৃতিক বিপর্যয় হিসেবে বর্ণনা করা হচ্ছে।



