যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিন অঙ্গরাজ্যে এবার এক বিচিত্র বিড়ালের সন্ধান মিলেছে, যার চার পায়ে মোট আঙুলের সংখ্যা ২৯টি। সাধারণত একটি বিড়ালের পায়ে মোট ১৮টি আঙুল থাকে। কিন্তু জিনগত এই অস্বাভাবিকতার কারণে বিড়ালটি ইতিমধ্যেই গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের খাতায় নিজের নাম তুলে নিয়েছে।

মেইন কুন জাতের এই পুরুষ বিড়ালটির নাম রাখা হয়েছে ‘ইরেবাস অ্যানোমালি’। কেন্দ্রা ভ্যানডেনব্লুমার ও হান্টার নেট নামের এক মার্কিন দম্পতির পোষা এই বিড়ালটির থাবার ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত করেছে যে, ইরেবাসের পায়ে সাধারণ বিড়ালের চেয়ে ১১টি অতিরিক্ত আঙুল রয়েছে।

অতিরিক্ত আঙুলের কারণে বিড়ালটির থাবাগুলো দেখতে অনেক বড় ও অন্যান্য বিড়ালের চেয়ে আলাদা। তবে এই শারীরিক বৈশিষ্ট্যের কারণে হাঁটাচলা বা দৈনন্দিন জীবনযাপনে ইরেবাসের কোনো ধরনের সমস্যা হচ্ছে না বলেও জানা গেছে। চিকিৎসাবিজ্ঞানে অতিরিক্ত আঙুল নিয়ে জন্মানোর এই অবস্থাকে ‘পলিড্যাক্টাইলি’ বলা হয়। মেইন কুন জাতের বিড়ালদের মধ্যে এই বৈশিষ্ট্য মাঝে মাঝে দেখা গেলেও ২৯টি আঙুল নিয়ে জন্মানোর ঘটনা এটিই প্রথম।

এর আগে ২০০২ সালে কানাডার ‘জেক’ নামের একটি বিড়াল ২৮টি আঙুল নিয়ে এই রেকর্ডের অধিকারী ছিল। চলতি বছরের শুরুর দিকে যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানের ‘টোবি’ নামের আরেকটি বিড়ালও ২৮টি আঙুল নিয়ে সেই রেকর্ডে ভাগ বসিয়েছিল। কিন্তু এবার সবাইকে পেছনে ফেলে এককভাবে শীর্ষস্থান দখল করল ইরেবাস।

কেন্দ্রা ও হান্টার মেইন কুন জাতের বিড়াল প্রজননের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। তাদের প্রতিষ্ঠানের নাম ‘ব্লু নর্দার্ন মেইন কুনস’। বিড়ালটির মালিক দম্পতি জানিয়েছেন, ইরেবাসের জন্মের পরপরই তার পায়ের গঠন দেখে তাদের ধারণা হয়েছিল যে সে হয়তো আগের সব রেকর্ড ভেঙে দিতে পারবে। অবশেষে গিনেস কর্তৃপক্ষের স্বীকৃতির মাধ্যমে তাদের সেই প্রত্যাশা পূরণ হলো।