নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির (এনএসইউ) পলিটিক্যাল সায়েন্স অ্যান্ড সোসিওলজি বিভাগের অ্যানথ্রোপলজি প্রোগ্রামের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হলো ‘বাংলাদেশ নৃবিজ্ঞান সিম্পোজিয়াম ২০২৬’। গত বুধবার (৭ অক্টোবর ২০২৬) বিশ্ববিদ্যালয়ের অডি–৮০১ মিলনায়তনে এই বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়, যেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, গবেষক এবং বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন। পুরো অনুষ্ঠানটির সভাপতিত্ব করেন এনএসইউর উপাচার্য আবদুল হান্নান চৌধুরী।

অনুষ্ঠানের শুরুতেই স্বাগত প্র্রবক্তব্য প্রদান করেন পলিটিক্যাল সায়েন্স অ্যান্ড সোসিওলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক রিজওয়ান খায়ের। তিনি আলোচনা করেন কীভাবে বিভাগটি সাধারণ শিক্ষা কোর্স থেকে শুরু করে বর্তমানে নৃবিজ্ঞানে পূর্ণাঙ্গ স্নাতক (বিএসএস) প্রোগ্রাম চালুর পর্যায়ে পৌঁছেছে। একই অনুষ্ঠানে স্কুল অব হিউম্যানিটিজ অ্যান্ড সোশ্যাল সায়েন্সেসের ডিন অধ্যাপক রিজওয়ানুল ইসলাম বলেন, মানবজাতির ভবিষ্যৎ বিনির্মাণ এবং সামাজিক পরিবর্তনের গতিপ্রকৃতি বুঝতে ক্রিটিক্যাল থিঙ্কিং বা সমালোচনামূলক চিন্তা এখন এক অপরিহার্য বুদ্ধিবৃত্তিক হাতিয়ার। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক আব্দুর রব খান পরামর্শ দেন যেন তারা কেবল পাঠ্যবইয়ের পড়াশোনাতেই সীমাবদ্ধ না থেকে বাস্তব সমাজকে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ ও বোঝার চেষ্টা করে।

সিম্পোজিয়ামের মূল বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞানের সাবেক অধ্যাপক এস এম নুরুল আলম। তাঁর দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনের অভিজ্ঞতা এবং বাংলাদেশে নৃবিজ্ঞান শিক্ষার প্রাথমিক পর্যায়গুলো নিয়ে তিনি বিস্তারিত আলোচনা করেন। মূল বক্তব্যের এক অংশে তিনি এনএসইউ-এর শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান জানান যেন পাঠ্যক্রমে তাত্ত্বিক জ্ঞানের পাশাপাশি ব্যবহারিক জ্ঞানের মধ্যে একটি যথাযথ ভারসাম্য বজায় রাখা হয়। এর আগে এনএসইউর কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউটের পরিচালক ও নৃবিজ্ঞান প্রোগ্রামের শিক্ষক অধ্যাপক বুলবুল সিদ্দিকী মূল বক্তার একাডেমিক অর্জন এবং দেশে নৃবিজ্ঞান শিক্ষার প্রসারে তাঁর অসামান্য অবদানের কথা বর্ণনা করেন।

এই অনুষ্ঠানে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দেওয়া হয়, যা হলো চীনের ইউনান ইউনিভার্সিটির নৃবিজ্ঞান বিভাগের সাথে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির একাডেমিক বিনিময় কার্যক্রম শুরু করার পরিকল্পনা। এই প্রস্তাবিত উদ্যোগটি বাস্তবায়িত হলে এনএসইউ-এর শিক্ষার্থীরা ইউনান ইউনিভার্সিটিতে পূর্ণ একটি শিক্ষাবর্ষ পড়াশোনা করার সুযোগ পাবেন। এছাড়া, সিম্পোজিয়ামের মাধ্যমে ফল ২০২৬ সেমিস্টারে ভর্তি হওয়া নৃবিজ্ঞান প্রোগ্রামের দ্বিতীয় ব্যাচের শিক্ষার্থীদের আনুষ্ঠানিকভাবে বরণ করে নেওয়া হয়।

একাডেমিক আলোচনার পর নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের নিজস্ব উদ্যোগে একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন প্রথম ব্যাচের শিক্ষার্থী রাহমা রাইসা ও নাজহাত নাহিয়ান তাইমুর। সবশেষে মোহাম্মদ হোসেন ধন্যবাদ জ্ঞাপনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করেন। পুরো আয়োজনে নৃবিজ্ঞান প্রোগ্রামের কো-অর্ডিনেটর মোহাম্মদ আবদুল বাতেন উপস্থিত থেকে দিক-নির্দেশনা প্রদান করেন।