জাতীয় পর্যায়ের নারী ক্রিকেটারদের জন্য পূর্ণ বেতন ও ভাতাসহ মাতৃত্বকালীন ছুটির সুবিধা প্রবর্তন করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। গত বৃহস্পতিবার বোর্ডের এক ভার্চুয়াল সভায় এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তটি চূড়ান্ত করা হয়। এর মাধ্যমে ক্রিকেটারদের এই বার্তা দেওয়া হবে যে, মা হওয়া মানেই পেশাদার ক্যারিয়ারের সমাপ্তি নয়, বরং যথাযথ সুযোগ-সুবিধার মাধ্যমে তারা পুনরায় মাঠে ফিরতে পারবেন।

বিসিবির পরিচালক এবং নারী ক্রিকেট বিভাগের প্রধান রফিকুল ইসলাম বাবু জানান, খুব দ্রুতই এই ছুটির পূর্ণাঙ্গ নীতিমালা প্রণয়ন করা হবে। যদিও ছুটির নির্দিষ্ট সময়সীমা নিয়ে এখনো আলোচনা চলছে—কেউ চার মাস আবার কেউ ছয় মাসের প্রস্তাব দিয়েছেন—তবে পরবর্তী বোর্ড সভায় এই বিষয়টি চূড়ান্তভাবে অনুমোদিত হবে। তিনি স্বীকার করেন যে, এই উদ্যোগটি আরও আগেই নেওয়া উচিত ছিল এবং এখন দেরি না করে দ্রুত এর বাস্তবায়ন করতে চায় বোর্ড।

সম্প্রতি জাতীয় দলের পেসার সুরাইয়া আজমিন এবং সাবেক ব্যাটার সানজিদা ইসলাম মাতৃত্বকালীন সময়ে বোর্ডের কাছ থেকে পর্যাপ্ত সহযোগিতা না পাওয়ার অভিযোগ তুলেছিলেন। সানজিদা ইসলাম প্রথম সন্তান জন্মদানের পর প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধার অভাবে ক্রিকেটে আর ফিরতে পারেননি। এছাড়া সাবেক ক্রিকেটার ও বর্তমান আম্পায়ার সাথিরা জাকির জেসিও এই সময়ে সম্মুখীন হওয়া কঠিন চ্যালেঞ্জগুলোর কথা উল্লেখ করেছেন।

এই ধরনের পরিস্থিতি ভবিষ্যতে যেন আর কেউ মোকাবিলা না করেন, সেই লক্ষ্যেই বিসিবি পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছে। উদাহরণস্বরূপ, সুরাইয়া আজমিনের আবেদনের প্রেক্ষিতে তাকে ইতোমধ্যে চার মাসের পারিশ্রমিক বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। রফিকুল ইসলাম বাবুর মতে, পে-রোলে থাকা ক্রিকেটাররা ছুটির সময়ে সব ধরনের বেতন-ভাতা পাবেন, যা তাদের মানসিক ও আর্থিক প্রশান্তি দেবে এবং সন্তান লালন-পালনের পর সতেজ মনে তারা পুনরায় খেলায় ফিরতে পারবেন।

পাশাপাশি, আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) নীতিমালা অনুসরণ করে নারী ক্রিকেটারদের জন্য সব ধরনের প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করার বিষয়টিও বর্তমানে বিসিবির আলোচনায় রয়েছে। পাকিস্তান অধিনায়ক বিসমাহ মারুফের মতো মা হওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই বিশ্বকাপের মঞ্চে ফেরার উদাহরণ সামনে রেখে বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের জন্য একই ধরনের সুযোগ তৈরি করতে চায় বিসিবি।