নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে এলাকা দখল এবং ধর্মীয় মাহফিলের কমিটি গঠন নিয়ে চরম বিরোধের মুখে প্রাণ হারিয়েছেন ভোলাব ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সহসভাপতি রিপন মিয়া (৪২)। গতকাল রোববার রাত সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার পাইস্কা কুলি মার্কেট এলাকায় এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। পেশায় কাঠ ব্যবসায়ী এবং স্থানীয় শহিদুল্লাহ মিয়ার পুত্র রিপন মিয়ার বাড়ি ওই এলাকাতেই।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত রিপন মিয়ার সঙ্গে ওই এলাকারই রিফাত কাজী নামের এক ব্যক্তির দীর্ঘদিনের বিরোধ ছিল। মূলত এলাকার আধিপত্য বজায় রাখা এবং সম্প্রতি আয়োজিত একটি ওয়াজ মাহফিলের আয়োজক কমিটিতে নাম অন্তর্ভুক্ত করা নিয়ে এই দ্বন্দ্ব চরমে পৌঁছায়। গত ৬ ও ৭ অক্টোবর পাইস্কা এলাকায় স্থানীয় যুবসমাজের উদ্যোগে একটি ওয়াজ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। সেই কমিটির সদস্য হিসেবে রিপন মিয়া ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নাম থাকলেও রিফাত কাজী ও তাঁর সমর্থকদের নাম রাখা হয়নি। এই বিষয়টিকে কেন্দ্র করে ঘটনার দিন রাত ১১টার দিকে দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা শুরু হয়।
অভিযোগ করা হয়েছে যে, কথা কাটাকাটির প্রায় আধা ঘণ্টা পর রিফাত কাজীর নেতৃত্বে ৫০ থেকে ৬০ জনের একটি দল হামলা চালায়। হামলাকারীরা সাথে করে রামদা, ছুরি এবং লোহার পাইপের মতো ধারালো ও শক্ত অস্ত্র নিয়ে রিপনের বাড়িতে প্রবেশ করে। এসময় দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ শুরু হয় এবং এক পর্যায়ে রিপন মিয়াকে এলোপাথাড়ি কুপিয়ে হত্যা করা হয়। স্থানীয়দের উপস্থিতির কারণে পরবর্তীতে হামলাকারী দলটি পালিয়ে যায়।
নিহত রিপনের ছেলে শাওন মিয়া জানান, তাঁর বাবার মাদকবিরোধী অবস্থানের কারণেও রিফাত কাজীর সঙ্গে বিরোধ ছিল। মাহফিলের কমিটিতে নাম না রাখা এবং মাদকবিরোধী কার্যক্রমের কারণেই তাঁর বাবাকে লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। অন্যদিকে, অভিযুক্ত রিফাত কাজীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে এবং স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে তিনি বর্তমানে গা ঢাকা দিয়েছেন।
নারায়ণগঞ্জের সহকারী পুলিশ সুপার (গ-সার্কেল) মেহেদী হাসান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, আধিপত্য বিস্তার ও কমিটির নাম রাখা নিয়ে বিরোধের কারণেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। পুলিশ ইতিমধ্যে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছে। রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ এইচ এম সালাউদ্দিন জানিয়েছেন, মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে এবং এই ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




