কুমিল্লা নগরের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের যুবদল কর্মী আবু কাউছার (৪৩) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় বিস্তারিত তথ্য সামনে এসেছে তাঁর বড় ভাই কবির হোসেনের দায়ের করা মামলার এজাহারে। গত শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে আদর্শ সদর উপজেলার ছত্রখিল পুলিশ ফাঁড়ির পূর্ব পাশে এই বর্বরোচিত হামলা চালানো হয়, যার ফলে ওইদিন দুপুরে হাসপাতালে কাউছারের মৃত্যু হয়। গত রোববার দুপুরে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলাটি আনুষ্ঠানিকভাবে নথিভুক্ত করা হয়েছে।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, কাউছারের ব্যবসায়িক সহযোগী শামীম হোসেন গোমতী নদীর উত্তর পাড়ের চরে নেপিয়ার ঘাস চাষের জন্য ৮ থেকে ১০ কানি জমি ইজারা নিয়েছিলেন। ওই জমির সামনে আসামিরা জোরপূর্বক কফি হাউস তৈরির চেষ্টা করলে কাউছারসহ অন্যরা বাধা দেন, যা থেকে দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র বিরোধের সৃষ্টি হয়। এই দ্বন্দ্ব মেটাতে আপস-মীমাংসার প্রস্তাব দিয়ে ১৬ অক্টোবর সকাল সাড়ে ১০টায় নির্ধারিত স্থানে আসতে বলা হয় কাউছার ও তাঁর সহযোগীদের।

ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর পরিস্থিতি বদলে যায়। এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, কাউছারসহ পাঁচজন একটি অটোরিকশায় এবং অন্য আরও চারজন আলাদা একটি অটোরিকশায় করে সেখানে যান। তাঁরা পৌঁছানোর পরপরই আসামিরা কাউছারের বহনকারী অটোরিকশার গতি রোধ করে অতর্কিত হামলা চালায়। অভিযোগ করা হয়েছে, সাইফুল ইসলাম চাপাতি দিয়ে কাউছারের পিঠে কোপ দেন এবং ফরহাদ হোসেন সুইচ গিয়ার ছুরি দিয়ে বুকে আঘাত করার চেষ্টা করেন। কাউছার তা ঠেকানোর চেষ্টা করলেও শেষ রক্ষা হয়নি। তাঁকে বাঁচাতে এগিয়ে আসা অটোরিকশাচালক মাসুমের মাথায় রামদা দিয়ে কোপ দেন তানজির, ফলে মাসুম গুরুতর আহত হন। স্থানীয়দের চিৎকার শুনে আসামিরা মোটরসাইকেলে করে পালিয়ে যান।

পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে পূর্বপরিকল্পনার কথা জানা গেছে। পুলিশ সুপার আনিসুজ্জামান এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, তৌহিদ, তানজির এবং তাঁদের সহযোগীরা পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালিয়েছেন। তবে জমির মালিকানা নিয়ে এজাহার ও পুলিশের তথ্যে ভিন্নতা দেখা গেছে। এজাহারে ইজারা জমির কথা বলা হলেও পুলিশ সুপার জানান, প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে ওই জায়গাটি পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) মালিকানাধীন।

এই ঘটনায় তৌহিদুল ইসলাম, তাঁর ভাই তানজির আলম, বাবা খোরশেদ আলম, সাইফুল ইসলাম এবং ফরহাদ হোসেনসহ মোট পাঁচজনকে নাম ধরে আসামি করা হয়েছে। এছাড়া আরও তিন থেকে চারজন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। পুলিশ ইতিমধ্যেই প্রধান অভিযুক্ত তৌহিদ এবং তার ভাই তানজিরকে গ্রেপ্তার করেছে। তৌহিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলাসহ মোট সাতটি মামলা রয়েছে এবং তিনি জামিনে ছিলেন। রোববার সন্ধ্যায় তাঁদের আদালতে হাজির করা হলে অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ফারহাদ রায়হান ভূঁইয়া তাঁদের সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। পুলিশ ও এসআরবি-১১ যৌথভাবে এই ঘটনার রহস্য উদঘাটন এবং অন্যান্য জড়িতদের শনাক্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছে।