সন্দ্বীপ থেকে চট্টগ্রামের পথে যাত্রা করা প্রায় ৩০০ যাত্রী এক ভয়াবহ অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হয়েছেন। যে পথ পাড়ি দিতে সাধারণত মাত্র আড়াই ঘণ্টা সময় লাগে, নাব্যতা সংকটের কারণে সেই যাত্রা শেষ করতে তাদের দীর্ঘ ১৯ ঘণ্টা ১৯ সময় ব্যয় করতে হয়েছে। বুধবার বেলা তিনটায় বাসযোগে রওনা হওয়া যাত্রী জোলেখা খানমসহ অনেকে মাঝসাগরে গভীর অন্ধকারে এবং বৃষ্টির মধ্যে আটকা পড়েন। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টায় তিনি তার হালিশহরের বাসায় পৌঁছান।
ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, বুধবার সন্ধ্যা ৭টা ১০ মিনিটে গুপ্তছড়া ঘাট থেকে সীতাকুণ্ডের বাঁশবাড়িয়া ফেরিঘাটের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে 'কপোতাক্ষ' নামক ফেরিটি। তবে যাত্রা শুরুর মাত্র ১০ মিনিটের মাথায় সন্দ্বীপ চ্যানেলের পলিমাটিতে সেটি আটকে যায়। এতে দুটি যাত্রীবাহী বাস, সাতটি ট্রাক এবং বেশ কিছু ব্যক্তিগত গাড়িসহ প্রায় ৩০০ যাত্রী মাঝসাগরে আটকা পড়েন। যদিও ফেরি কর্তৃপক্ষ যাত্রী সংখ্যা ১০০ বলে দাবি করেছিল, তবে প্রত্যক্ষদর্শী যাত্রীদের মতে সেখানে মানুষের সংখ্যা ছিল বহুগুণ বেশি।
যাত্রীদের বর্ণনা অনুযায়ী, ফেরিটি আটকা পড়ার পর শুরুতে ইঞ্জিন বন্ধ করে দেওয়া হয়, যার ফলে পুরো ফেরি অন্ধকারে ডুবে যায় এবং যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেক പ്രതിഷേധের পর ঘণ্টাখানেক পর ইঞ্জিন পুনরায় চালু করা হয়। যাত্রী জোলেখা খানম জানান, তার সঙ্গে থাকা ভাই মো. শরীফুল ইসলাম ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হওয়ায় তিনি চরম দুশ্চিন্তায় ছিলেন। রাতভর কেউ ঘুমাতে পারেননি এবং সবাই জোয়ারের অপেক্ষায় প্রহর গুণেন। রাত তিনটার দিকে জোয়ারের পানি বাড়লে ফেরিটি নড়তে শুরু করে এবং শেষ পর্যন্ত সকাল সাড়ে সাতটায় বাঁশবাড়িয়া পন্টুনে পৌঁছায়।
এই দীর্ঘ আটকে থাকার সময়ে ফেরির ক্যানটিনে খাবারের দাম অস্বাভাবিক বাড়িয়ে দ্বিগুণ বা তিনগুণ রাখা হয়েছিল বলে অভিযোগ করেছেন যাত্রীরা। যেহেতু যাত্রীরা স্বল্প সময়ের যাত্রার কথা ভেবে পর্যাপ্ত খাবার সাথে রাখেননি, তাই বাধ্য হয়েই তাদের চড়া দামে খাবার কিনতে হয়েছে। যদিও গভীর রাতে স্থানীয় কিছু মহলের পক্ষ থেকে খাদ্য সহায়তা পৌঁছানো হয়েছিল।
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) উপপরিচালক (পোর্ট অফিসার) নয়ন শীল এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জন্য ফেরির মাস্টারের গাফিলতিকে দায়ী করেছেন। তিনি জানান, উপকূলীয় এলাকায় ফেরি চালানোর ক্ষেত্রে জোয়ার-ভাটার সময়সূচি যথাযথভাবে মেনে চলা প্রয়োজন ছিল, যা এক্ষেত্রে করা হয়নি। তবে এই বিষয়ে ফেরি মাস্টার সাইফুল ইসলাম মুঠোফোনে বা খুদে বার্তার কোনো উত্তর দেননি। অন্যদিকে, খাবারের দাম বাড়িয়ে রাখা প্রসঙ্গে সন্দ্বীপের নির্বাহী কর্মকর্তা আমজাদ হোসেন জানান, তিনি রাতে ফেরিতে গিয়েছিলেন কিন্তু যাত্রীদের কাছ থেকে সরাসরি কোনো অভিযোগ পাননি। তবে অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি আশ্বাস দিয়েছেন।




