বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। অবকাঠামোগত চরম জীর্ণতা এবং দক্ষ চিকিৎসকের অভাবে এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সেবার মান মারাত্মকভাবে হ্রাস পেয়েছে। হাসপাতালের পুরোনো ভবনের ছাদ ও দেয়ালে দেখা গেছে অসংখ্য ফাটল, অনেক জায়গায় পলেস্তারা খসে পড়েছে এবং কংক্রিটের রড বেরিয়ে এসেছে। যদিও ভবনটিকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনা’ হিসেবে চিহ্নিত করে সতর্কবার্তা লাগানো হয়েছে, তবুও এই বিপজ্জনক পরিবেশেই হাসপাতালের জরুরি বিভাগ, প্যাথলজি, এক্স-রে, ইসিজি এবং যক্ষ্মা কেন্দ্রের মতো গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের আশঙ্কা, সামান্য ভূমিকম্প বা বড় কোনো ধাক্কায় এই ভবনটি ধসে পড়তে পারে, যা রোগীদের জন্য প্রাণঘাতী হতে পারে।
শুধু ভবন নয়, জনবল সংকটেও হিমশিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। লক্ষাধিক মানুষের এই উপজেলায় মোট ৪০টি চিকিৎসক পদের বিপরীতে কাগজে-কলমে কর্মরত আছেন ১৪ জন। তবে বাস্তবে নিয়মিত সেবা দিচ্ছেন মাত্র ৮ জন। এর মধ্যে দুজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নিয়মিত আসেন না এবং দুজন চিকিৎসক দীর্ঘ ৪ ও ১৪ বছর ধরে বিদেশে অবস্থান করছেন। ফলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের তীব্র ঘাটতি রয়েছে। এছাড়া প্যাথলজি বিভাগের তিনটি পদই শূন্য এবং কোনো ল্যাব অ্যাসিস্ট্যান্ট নেই। এমনকি পাঁচজন পরিচ্ছন্নতাকর্মীর পদের বিপরীতে মাত্র একজন কর্মরত আছেন। চিকিৎসকের অভাবের কারণে অনেক রোগীকে বাধ্য হয়ে বাগেরহাট বা খুলনা শহরে ছুটতে হচ্ছে।
হাসপাতালের সেবার আরেকটি বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে আধুনিক যন্ত্রপাতির অব্যবহার। প্রায় এক বছর আগে একটি আধুনিক এক্স-রে যন্ত্র সরবরাহ করা হলেও তা এখনো বাক্সবন্দী। ভারপ্রাপ্ত আরএমও মনি শংকর পাইক জানান, পল্লী বিদ্যুতের বর্তমান সংযোগে এই মেশিন চালানোর সক্ষমতা নেই, তাই এটি চালু করতে আলাদা বৈদ্যুতিক সাবস্টেশনের প্রয়োজন। প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নিশ্চিত না করেই মেশিনটি পাঠানো হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। এই সীমাবদ্ধতার কারণে রোগীদের প্রাথমিক চিকিৎসার পর উন্নত পরীক্ষার জন্য জেলা হাসপাতালে রেফার করা হচ্ছে।
২০২১ সাল থেকে এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অস্ত্রোপচার কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে আছে। জুলাই মাসের তথ্যানুযায়ী, প্রতিদিন গড়ে ১৬৫ জন রোগী বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিচ্ছেন। ১৯৭৬ সালে ৩১ শয্যা নিয়ে চালু হওয়া এই কমপ্লেক্সটি ২০০৫ সালে ৫০ শয্যায় উন্নীত হয়। তবে স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর গত বছর পুরোনো ভবনটিকে সম্পূর্ণ ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করেছে।
বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা হাসান মাহমুদ জানান, ১০০ শয্যার নতুন ভবন নির্মাণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এছাড়া বিদ্যমান ভবনের ওপর টিনশেড দিয়ে একটি অতিরিক্ত তলা তৈরি করা হয়েছে, যা হস্তান্তর হলে স্থানসংকট কিছুটা কমবে। নতুন এক্স-রে মেশিন চালুর জন্য প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ ব্যবস্থা এবং কক্ষ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে এবং সার্বিক সমস্যার কথা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।




