সিঙ্গাপুরের জাতীয় স্টেডিয়ামে আগামী নভেম্বরে চার দল নিয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবল টুর্নামেন্ট আয়োজন করা হবে। 'মিজুহো ব্লু চ্যালেঞ্জ' নামের এ আসরে অংশ নেবে ব্রাজিল, জাপান, প্যারাগুয়ে এবং স্বাগতিক সিঙ্গাপুর। এর মধ্যে সবচেয়ে আকর্ষণীয় ম্যাচ হতে পারে জাপান-ব্রাজিল লড়াই, কারণ গত বিশ্বকাপে ব্রাজিলের কাছে হেরে বিদায় নিতে হয়েছিল জাপানকে। সেই ক্ষত মোচনের সুযোগ পাচ্ছে তারা এ টুর্নামেন্টে।
বার্তা সংস্থা এএফপিকে আজ আয়োজকরা নিশ্চিত করেছেন যে, ফিফার আন্তর্জাতিক বিরতির সময় ১৩ থেকে ১৭ নভেম্বর এ টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হবে। ১৩ নভেম্বর উদ্বোধনী ম্যাচে প্যারাগুয়ের মুখোমুখি হবে সিঙ্গাপুর। পরের দিন ১৪ নভেম্বর মাঠে নামবে জাপান ও ব্রাজিল। ১৭ নভেম্বর শেষ দিনে দুটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে — পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল খেলবে স্বাগতিক সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে, আর জাপানের প্রতিপক্ষ হবে প্যারাগুয়ে।
উল্লেখ্য, গত জুন-জুলাইয়ে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের শেষ ৩২ দলের রাউন্ডে ২-১ গোলে হেরে ছিটকে পড়েছিল জাপান। অন্যদিকে ব্রাজিলও সেই আসরের শেষ ষোলোয় নরওয়ের কাছে হেরে বিদায় নিয়েছিল। বিশ্বকাপের পর প্রথম ফিফা বিরতিতে কোচ কার্লো আনচেলত্তির দল তিনটি প্রীতি ম্যাচ খেলবে। ২৫ সেপ্টেম্বর কুইন্সল্যান্ড এবং ২৯ সেপ্টেম্বর ব্রিসবেনে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দুটি ম্যাচ, এরপর ৩ অক্টোবর কলকাতার সল্ট লেক স্টেডিয়ামে ভারতের মুখোমুখি হবে ব্রাজিল। ভারতীয় কোচ খালিদ জামিল এ ম্যাচের জন্য ২৬ জনের দল ঘোষণা করেছেন এবং ১৪ সেপ্টেম্বর থেকে অনুশীলন শুরু করবে তাঁর শিষ্যরা।
এদিকে জাপান দল বিশ্বকাপের পর নতুন করে প্রস্তুতি নিচ্ছে। সিঙ্গাপুরের টুর্নামেন্টটি তাদের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ, কারণ ব্রাজিলের বিপক্ষে নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণের সুযোগ পাবে তারা। আয়োজকরা আশা করছেন, এ টুর্নামেন্ট এশিয়ার ফুটবলপ্রেমীদের জন্য আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে। সূচি অনুযায়ী, উদ্বোধনী দিনেই স্বাগতিক সিঙ্গাপুরের সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেবে প্যারাগুয়ে। এর পরদিনই হবে জাপান-ব্রাজিলের হাইভোল্টেজ ম্যাচ, যা টুর্নামেন্টের সবচেয়ে আলোচিত মুহূর্ত হয়ে উঠতে পারে। শেষ দিনে ব্রাজিল সিঙ্গাপুর এবং জাপান প্যারাগুয়ের বিপক্ষে লড়াই করে আসরের সমাপ্তি টানবে।
বিশ্বকাপে ব্রাজিলের বিপক্ষে শেষ মুহূর্তের গোলে হেরে যাওয়ার তিক্ত স্মৃতি এখনো জাপানিদের মনে আছে। তাই এই টুর্নামেন্ট তাদের জন্য শুধু একটি প্রীতি আসর নয়, বরং নিজেদের ঘুরে দাঁড়ানোর মঞ্চ হিসেবে দেখছেন অনেকেই। ব্রাজিলের কাছেও এটি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ বিশ্বকাপের ব্যর্থতার পর নতুন কোচের অধীনে দল গোছানোর সুযোগ পাচ্ছেন আনচেলত্তি।



