দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই এনজো মারেসকা ম্যানচেস্টার সিটির খেলায় হৃদস্পন্দনের কেন্দ্রবিন্দু—অর্থাৎ সেন্ট্রাল মিডফিল্ড—কে আরও শক্তিশালী করার দিকে মনোনিবেশ করেছেন। গত মৌসুমের শেষে পেপ গার্দিওলার প্রস্থান এবং নতুন কোচের আগমনের সঙ্গে সঙ্গে ক্লাবটি মাঝমাঠে বড় ধরনের রদবদলের মুখোমুখি হয়েছে। বার্সেলোনায় যোগ দিয়েছেন রদ্রি পাড়ি, আর আল কাদসিয়ায় পাড়ি জমিয়েছেন তিয়ানি রেইন্ডার্স। দুই অভিজ্ঞ সৈন্যের বিদায়ে সৃষ্ট শূন্যতা পূরণ করতে সিটি নতুন মুখের সন্ধানে নামে এবং একের পর এক সিদ্ধান্ত নেয়।
এই শূন্যস্থান পূরণে নটিংহাম ফরেস্ট থেকে ইতোমধ্যেই এলিয়ট অ্যান্ডারসনকে দলে নেওয়া হয়েছে। এবার যোগ হলো আরও একটি নতুন নাম—আইয়ুব বুয়াদ্দি। ফরাসি ক্লাব লিল থেকে মরক্কোর তরুণ মিডফিল্ডারকে নিজেদের জার্সির নিচে আনতে সক্ষম হয়েছে সিটি। দুই পক্ষের মধ্যে কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা আলোচনার পর অবশেষে সমঝোতায় পৌঁছানো গেছে। চুক্তির মূল্য নির্ধারিত হয়েছে ৮ কোটি ৬০ লাখ পাউন্ড, যা মার্কিন ডলারে প্রায় ১১ কোটি ৭০ লাখ। এই বিশাল অঙ্কের বিনিময়ে ১৮ বছর বয়সী ‘বিস্ময় বালক’কে পেতে যাচ্ছে ইংলিশ ক্লাবটি।
বুয়াদ্দিকে ‘বিস্ময় বালক’ আখ্যা দেওয়ার পেছনে যুক্তিযুক্ত কারণ রয়েছে। বয়স মাত্র ১৮ হলেও সাম্প্রতিক বিশ্বকাপে তাঁর খেলা দেখে বয়স ভুলে যেতে বাধ্য হতে হয়। মরক্কোকে কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছে দেওয়ার যাত্রাপথে তাঁর দৌড়, সুনির্দিষ্ট পাস এবং চাপের মুহূর্তে ঠান্ডা মাথার সিদ্ধান্ত আলাদাভাবে চোখে পড়েছে। প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগ ভাঙার ক্ষমতা ও বল ধরে রাখার দক্ষতায় তিনি ইতোমধ্যেই পরিপক্বতার ছাপ রেখেছেন। যদিও ফ্রান্সের বিপক্ষে পরাজয়ে সেই অভিযান থেমে যায়, তবু তরুণের প্রতিভা নতুন গল্পের সূচনা করেছে বলেই মনে করা হচ্ছে।
লিলের সঙ্গে আলোচনা শেষ হওয়ার পর এখন শুধু আনুষ্ঠানিকতার অপেক্ষা। ইংল্যান্ডে পৌঁছে স্বাস্থ্য পরীক্ষার আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হলেই বুয়াদ্দি গায়ে জড়াবেন সিটির আকাশি-নীল রঙের জার্সি। এরপরই তাঁর নতুন অধ্যায় শুরু হবে প্রিমিয়ার লিগের মঞ্চে। ক্লাবটির পরিকল্পনায় তিনি দ্রুতই প্রথম একাদশে জায়গা করে নেওয়ার সুযোগ পেতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মারেসকা দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই কেন্দ্রীয় মিডফিল্ডের শক্তি বাড়ানোর লক্ষ্যে কাজ করছেন। ম্যাচের ফলাফল অনেকাংশে এই এলাকাতেই নির্ধারিত হয় বলে তাঁর দৃঢ় বিশ্বাস। অ্যান্ডারসনের সঙ্গে জুটি বাঁধবেন মরক্কোর এই তরুণ, যা সিটির মাঝমাঠকে নতুন মাত্রা দিতে পারে এবং খেলার গতি নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তবে এখানেই শেষ নয়; চেলসির এনজো ফার্নান্দেজের প্রতিও ক্লাবটির আগ্রহ রয়েছে। ১২ কোটি পাউন্ড মূল্যের এই খেলোয়াড়কে ঘিরে চেলসি নির্ধারিত সময়সীমা বেঁধে দিলেও কোনো চূড়ান্ত চুক্তি আলোর মুখ দেখেনি। শেষ মুহূর্তে নাটকীয় কোনো পরিবর্তন আসে কি না, সেটি এখনো দেখার বিষয়। সিটির পরিবর্তনের হাওয়া এখনো থামেনি বলেই মনে হচ্ছে।




