ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) দুই নেতা আশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাসের জেলহাজতের মেয়াদ ইচ্ছাকৃতভাবে দীর্ঘায়িত করার চেষ্টা চলছে বলে গুরুতর অভিযোগ তুলেছে ওই রাজনৈতিক দল। সিজেপির লিগ্যাল সেলের প্রধান রত্না সিংয়ের দাবি, ম্যাজিস্ট্রেটকে 'হুমকি' দেওয়ার কথা বলে উদ্দেশ্যমূলকভাবে তাঁদের জামিন প্রক্রিয়ায় দেরি করা হচ্ছে, যাতে মূল বিষয়টি থেকে দৃষ্টি সরিয়ে নেওয়া যায়। দ্রুত এই সমস্যার সমাধান না হলে তাঁরা উচ্চতর আদালতের দ্বারস্থ হবেন বলে সতর্ক করেছেন।
গত ১৩ অক্টোবর জাতীয় পতাকা হাতে লোহার ফটক টপকে যন্তর মন্তরে প্রবেশের অভিযোগে আশুতোষ ও সৌরভকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং পাঁচ দিনের পুলিশি হেফাজতে পাঠানো হয়েছিল। গত রোববার তাঁদের জামিনের শুনানি নির্ধারিত ছিল দুপুর ১২টায়। তবে সিজেপি নেতাদের অভিযোগ, বিশেষ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবং সরকারি কৌঁসুলি বিকেল পাঁচটার আগে এজলাসে উপস্থিত হননি। ম্যাজিস্ট্রেট এজলাসে এসে দাবি করেন, ওই দুই নেতার মুক্তির জন্য তাঁকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে এবং প্রভাবিত করার চেষ্টা চলছে, তাই সুরক্ষার খাতিরে তিনি সেদিনের শুনানি থেকে নিজেকে সরিয়ে নিচ্ছেন।
রত্না সিং অভিযোগ করেন, বিশেষ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের দায়িত্বে থাকা দিল্লি পুলিশের সহকারী কমিশনার পদমর্যাদার ওই কর্মকর্তা গত চার দিন এজলাসে আসেননি। পঞ্চম দিনে দীর্ঘ সময় পর উপস্থিত হয়ে তিনি জামিনের আবেদনের পরিবর্তে হুমকি পাওয়ার প্রসঙ্গটি সামনে আনেন। রত্না সিং বলেন, হুমকি পাওয়া হলে হুমকিদাতাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া উচিত এবং তাঁদের ফোন নম্বর প্রকাশ করা উচিত। কিন্তু সেই অজুহাতে জামিনের আবেদন কেন শুনানি হবে না, তা প্রশ্নবিদ্ধ। তাঁর মতে, জাতীয় পতাকা তোলা কোনো অপরাধ নয় এবং তুচ্ছ প্রক্রিয়াগত কারণ দেখিয়ে তাঁদের আটকে রাখা উদ্বেগের বিষয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম 'এক্স'-এ রত্না সিং জানান, তিনি বেলা ১১টা থেকেই থানায় উপস্থিত ছিলেন, কিন্তু বিকেল ৪টা ৪২ মিনিট পর্যন্ত ম্যাজিস্ট্রেট গরহাজির ছিলেন। এছাড়া চারজন জামিনদারের নথি অস্পষ্টতার কথা বলে খারাব করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন; এমনকি ব্যাংকের স্ট্যাম্পযুক্ত ফিক্সড ডিপোজিট রিসিপ্টও খারিজ করে দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, একই ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া সিজেপির আহ্বায়ক অভিজিৎ দিপকে শর্তাধীনে জামিন পেলেও আশুতোষ ও সৌরভকে আটকে রাখা হয়েছে। অভিজিৎ দিপকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই পরিস্থিতিকে রাষ্ট্রের 'নোংরা কৌশল' হিসেবে অভিহিত করেছেন। তাঁর দাবি, তাঁদের আটকে রাখার কোনো আইনি ভিত্তি নেই এবং এটি কেবল টালবাহানা।
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে দিল্লি পুলিশের বরাতে সংবাদ সংস্থা পিটিআই জানিয়েছে, ম্যাজিস্ট্রেটকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে একটি 'নন কগনিজেবল রিপোর্ট' দায়ের করা হয়েছে। তবে সিজেপি নেতাদের জামিন শুনানি না হওয়া বা ইচ্ছাকৃতভাবে হাজতবাস বাড়ানোর অভিযোগের বিষয়ে দিল্লি পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য করা হয়নি। আগামী সোমবার এই মামলার পরবর্তী শুনানির কথা রয়েছে।




