আলোচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর আশরাফুল হোসেন আলম, যিনি হিরো আলম নামে পরিচিত, তার সাবেক স্ত্রী মোছা. সাথী খাতুন এবং আরও দুই সহযোগীর বিরুদ্ধে ঢাকার একটি আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। পনের লাখ টাকা চাঁদা দাবি, অর্থ আত্মসাৎ, প্রতারণা এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ আনা হয়েছে এই মামলায়। মঙ্গলবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রাজু আহমেদের আদালতে এই আবেদন জমা দেন হিরো আলম। বাদীর আইনজীবী শান্তা সাকসিনা জানিয়েছেন, আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করার পর পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)-কে পুরো বিষয়টি তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। মামলার অন্য দুই অভিযুক্ত হলেন হিরো আলমের কাজের সহযোগী আহসান হাবিব সেলিম এবং মো. মহিদুল ইসলাম।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, সাথী খাতুন মিউজিক ভিডিওতে অভিনয়ের সুযোগ পাওয়ার জন্য হিরো আলমের কাছে অনুরোধ জানান এবং কাজ না পেলে অনাহারে মারা যাবেন বলে জানান। এরপর হিরো আলম তাকে মিউজিক ভিডিওতে সুযোগ দেন। তবে বেশ কিছু কাজ করার পর রামপুরার অফিসে গিয়ে হিরো আলমকে বিয়ের জন্য ব্ল্যাকমেইল করেন সাথী। আগের বিয়ের কথা গোপন রেখে গত ৪ এপ্রিল তারা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। অভিযোগ করা হয়েছে যে, বিয়ের পর সাথী সেলিমের সাথে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন এবং পোশাক ও শাড়ি কেনাকাটার কথা বলে বিভিন্ন সময়ে হিরো আলমের কাছ থেকে তিন লাখ টাকা গ্রহণ করেন। পারিবারিক শান্তি বজায় রাখতে হিরো আলম সেই টাকা প্রদান করেছিলেন।

গত ২২ আগস্ট হিরো আলম ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরব সফরকালে তিন অভিযুক্ত তাকে ফোন করে সাজসজ্জার সামগ্রী এবং মিউজিক ভিডিওর জন্য আরও দুই লাখ টাকা দাবি করেন। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন যে দেশে ফিরে এই টাকা পরিশোধ করবেন। তবে দেশে ফেরার পর তিনি জানতে পারেন যে সাথী, সেলিম এবং মহিদুল পরস্পর শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হয়েছেন এবং তারা টাকা দাবি করছেন। মামলার তথ্যানুযায়ী, গত ১৭ আগস্ট তাদের পাঁচ লাখ টাকা দেওয়া হয়, যা ব্যাংকে জমা রাখার কথা সাথী পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্বীকার করেন।

২৯ সেপ্টেম্বর হিরো আলম ও সাথীর বিবাহ বিচ্ছেদ হয়ে যায়। এর পরপরই তিন আসামি মিলে তার কাছে ১৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হিরো আলম ও তার পরিবারের সদস্যদের গালিগালাজ এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। এমনকি গত ১২ অক্টোবর আসামিরা সোশ্যাল মিডিয়ায় লাইভে এসে ঘোষণা করেন যে, হিরো আলমের জন্মদিনের অনুষ্ঠানে তারা বিষ পান করবেন এবং তাকে জেল খাটাবেন। এই পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাতিরঝিল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছিলেন হিরো আলম।