রাজধানীর মিরপুর-১ এলাকার রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে মধ্যরাতে চালানো হামলা, লুটপাট এবং স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান এই ঘটনাকে 'ক্ষমতার অপব্যবহার' হিসেবে অভিহিত করেছেন। শনিবার সকালে তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি জানান, রাতের অন্ধকারে মুখোশধারী প্রায় দুই শতাধিক ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ওই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা চালায়। ভাঙচুর ও লুটপাটের পর স্থাপনাটি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় এবং সেখানে রহস্যজনকভাবে একটি সাইনবোর্ড লাগানো হয়। প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, এই ঘটনার পেছনে কারা জড়িত তা স্পষ্ট, যাদের উদ্দেশ্য ছিল সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবার সুযোগটি নষ্ট করা। তিনি জড়িতদের শনাক্ত করে কঠোর শাস্তির দাবি জানান।

একই ঘটনায় জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগর উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন এবং সেক্রেটারি মুহাম্মদ রেজাউল করিম একটি যৌথ বিবৃতিতে নিন্দা জানান। তাদের দাবি, সংরক্ষিত নারী আসনের একজন বিএনপি সংসদ সদস্য এবং স্থানীয় এক বিএনপি নেতার ইন্ধনে এই হামলা চালানো হয়েছে। তারা উল্লেখ করেন, দীর্ঘ সময় ধরে নিম্ন আয়ের মানুষের মাতৃসেবা, শিশুসেবা ও টিকাদান কর্মসূচি পালন করা এই প্রতিষ্ঠানের ওপর এমন আক্রমণ গণতান্ত্রিক সরকারের সময়ে অত্যন্ত দুঃখজনক। তারা আরও জানান, প্রতিষ্ঠানটি গুঁড়িয়ে দেওয়ার ফলে বর্তমানে সড়কে টিকাদান করতে হচ্ছে, যা শিশু ও মায়েরাদের চরম ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

অন্যদিকে, আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি) এই ঘটনাকে রাষ্ট্রের আইন ও প্রশাসনের সক্ষমতার ওপর আঘাত হিসেবে বর্ণনা করেছে। দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক ওহাব মিনার ও সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান ফুয়াদ এক বিবৃতিতে জানান, হামলাকারীরা সরকারি ইপিআই টিকা, রেজিস্টার, গুরুত্বপূর্ণ নথি, ওষুধ ও নগদ অর্থ লুট করেছে। প্রতিষ্ঠানটির হিসাব অনুযায়ী, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় দেড় কোটি টাকা। এবি পার্টি মনে করে, জমির মালিকানা বা লিজ নিয়ে বিরোধ থাকলে তা আদালতের মাধ্যমে সমাধান করা উচিত ছিল, দলবল নিয়ে হামলা করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের 'মব কালচার' শেষ করার অঙ্গীকারের কথা মনে করিয়ে দিয়ে এবি পার্টি ছয়টি নির্দিষ্ট দাবি উত্থাপন করেছে। এর মধ্যে রয়েছে—হামলায় জড়িত সবাইকে গ্রেপ্তার করা, পরিকল্পনাকারী ও অর্থদাতাদের চিহ্নিত করা, লুট হওয়া সরকারি টিকা ও সরঞ্জাম উদ্ধার করা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গাফিলতি তদন্ত করা। এছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম দ্রুত পুনর্বহালের আহ্বান জানানো হয়েছে।

ঘটনাটি ঘটে গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে। অভিযোগ অনুযায়ী, মুখোশধারী হামলাকারীরা দুই নিরাপত্তাকর্মীকে জিম্মি করে ভেতরে প্রবেশ করে এবং ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে একটি পাকা ও তিনটি আধা-পাকা ভবন সম্পূর্ণ গুঁড়িয়ে দেয়। এই ঘটনায় ইতিমধ্যে চারজন গ্রেপ্তার হয়েছেন বলে জানা গেছে।