রাজধানীর মেট্রোরেলে পোশাকের কারণে অ্যাথলেটদের হয়রানির প্রতিবাদে এক ব্যতিক্রমী কর্মসূচি পালন করেছেন একদল তরুণ। 'শর্টস পরেই মেট্রোতে উঠি!' শিরোনামের এই কর্মসূচির মাধ্যমে তারা পোশাকের স্বাধীনতার দাবি জানান। নির্ধারিত সময় ছিল বৃহস্পতিবার বিকেলে, তবে সকাল থেকেই ফার্মগেট স্টেশনে স্পোর্টসওয়্যার ও হাফ প্যান্ট পরে অসংখ্য তরুণের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মী সাগর মজুমদার, রকিবুল ইসলাম এবং ব্যবসায়ী মাহফুজুর রহমানসহ অনেকে সকাল ৭টার পর থেকেই এই প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নেন এবং আলাদাভাবে টিকিট কেটে মেট্রোরেলে ভ্রমণ করেন।

পুরো ঘটনার সূত্রপাত হয় গত ২৭ সেপ্টেম্বর সকালে। রানিং কোচ ও অ্যাথলেট সাজ্জাদ হোসেন প্রশিক্ষণ শেষে টি-শার্ট ও শর্টস পরে ফার্মগেট মেট্রো স্টেশনে গেলে এক পুলিশ সদস্য তাকে আটকে রাখেন। সাজ্জাদের অভিযোগ, তার পোশাককে 'অশালীন' বলে প্রায় ৪০ মিনিট ধরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরবর্তীতে সাজ্জাদ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি ভিডিও প্রকাশ করেন, যেখানে তিনি পুলিশ সদস্যের কাছে মেট্রোরেলে চলাচলের জন্য নির্দিষ্ট কোনো ড্রেস কোড বা পোশাকের নিয়ম আছে কি না তা জানতে চান। ওই পুলিশ সদস্য জানান, বিষয়টি তদারকি করা তার দায়িত্ব। তবে মেট্রোরেল পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)-এর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা স্পষ্ট করেছেন যে, যাত্রীদের জন্য কোনো সুনির্দিষ্ট ড্রেস কোড বা পোশাকের বাধ্যবাধকতা নেই।

এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার প্রতিবাদে শাওন আহমেদ নামের এক ফেসবুক ব্যবহারকারী একটি ইভেন্ট তৈরি করেন। সেখানে অ্যাথলেট, সাইক্লিস্ট, জিমে যাওয়া ব্যক্তি এবং সাধারণ নাগরিকদের স্বাভাবিক স্পোর্টসওয়্যার পরে মেট্রোরেল ব্যবহারের আহ্বান জানানো হয়। যদিও কর্মসূচির সময় নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন তথ্যের কথা বলা হয়েছিল, তবে অধিকাংশ প্রতিবাদকারী সকালেই ফার্মগেট স্টেশনে জড়ো হন। আয়োজকদের মতে, তাদের উদ্দেশ্য কোনো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা নয়, বরং অহেতুক হয়রানির প্রতিবাদ জানানো এবং যাত্রীদের প্রতি সম্মানজনক আচরণের দাবি তোলা। তাদের মূল স্লোগান ছিল— 'সমস্যা শর্টসে নয়, সমস্যা হয়রানিতে!'

কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া সাগর মজুমদার জানান, অ্যাথলেটদের জন্য দৌড়ানোর সময় শর্টস পরা সবচেয়ে আরামদায়ক এবং সাজ্জাদ হোসেনের মতো আর কেউ যেন হয়রানির শিকার না হয়, সেজন্যই তিনি এই প্রতিবাদে শামিল হয়েছেন। তার মতে, পোশাক দেখার দৃষ্টিভঙ্গির ওপর ভিত্তি করে সেটি ইতিবাচক বা নেতিবাচক হয়। অন্যদিকে, ব্যবসায়ী মাহফুজুর রহমান জানান, তিনি সাধারণত মেট্রোরেলে যাতায়াত করেন না এবং শর্টসও পরেন না, তবে এই অন্যায়ের প্রতিবাদ জানাতেই তিনি আজ বিশেষ পোশাক পরে এসেছেন। তিনি মনে করেন, সাধারণ পোশাক পরে মেট্রোরেলে যাতায়াতের অধিকার সবার থাকা উচিত।