সোমবার সন্ধ্যায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নতুন ভবনে এক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় প্রশাসনের সূত্রে জানা গেছে, হাসপাতালের নতুন আটতলা ভবনের একটি লিফটের কন্ট্রোল রুমের বোর্ডে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিটের ফলে অতিরিক্ত উত্তাপ তৈরি হয়, যা থেকে আগুনের সূত্রপাত হয় বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। খবর পাওয়ার ১০ মিনিটের মধ্যে ফায়ার সার্ভিসের ১০টি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে এবং সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার মধ্যে আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়।

এই ঘটনায় হতাহতের খবরের বিষয়ে সংঘাতপূর্ণ তথ্য সামনে এসেছে। একটি টেলিভিশন চ্যানেলে ছয়জন মারা যাওয়ার খবর প্রচার হলেও বিভাগীয় কমিশনার এস এম হুমায়ুন কবির সরকার জানিয়েছেন, পদদলিত হয়ে কারও মৃত্যুর কোনো প্রমাণ এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। তিনি বলেন, হাসপাতালের জরুরি বিভাগের তালিকায় মৃত্যুর কোনো তথ্য নেই এবং মর্গের তথ্যের সঙ্গে অন্যান্য তথ্যের মিল পাওয়া যাচ্ছে না। সব তথ্য পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করার পরই চূড়ান্ত সংখ্যা জানানো হবে। তিনি গণমাধ্যমগুলোর প্রতি অনুরোধ জানান যে, নিশ্চিত না হয়ে কোনো তথ্য প্রচার করা উচিত নয়, কারণ এটি বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে।

একই সুরে কথা বলেছেন ময়মনসিংহ রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান। তিনি জানান, বিভিন্ন তালিকা যাচাই করা হচ্ছে এবং যাদের মৃত্যুর কথা শোনা যাচ্ছে, তাদের স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত হাতে কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ আসেনি। তথ্য নিশ্চিত হলেই তা গণমাধ্যমকে জানানো হবে।

অন্যদিকে, অগ্নিকাণ্ডের সময় ভবনের অব্যবস্থাপনা নিয়ে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ভবনের মোট পাঁচটি সিঁড়ির মধ্যে চারটি সবসময় তালাবদ্ধ রাখা হতো, মাত্র একটি সিঁড়ি খোলা ছিল। ফলে আগুন ও ধোঁয়ায় আতঙ্কিত রোগীরা দ্রুত বের হতে পারেননি। হৃদরোগ বিভাগে ভর্তি রোগীর স্বজন সাথী বেগম এবং দুলাল মিয়া জানান, সিঁড়ির ফটক বন্ধ থাকায় তারা নিচে নামতে পারছিলেন না। তাড়াহুড়ো করে একটি খোলা সিঁড়ি দিয়ে নামার সময় অনেকে আহত হয়েছেন। দুলাল মিয়া জানান, তার দুই মেয়ে ও তিন নাতনি এই ঘটনায় আহত হয়ে বাসায় ফিরেছে।

ঘটনার পর রাত ১০টার দিকে হাসপাতালের সম্মেলন কক্ষে বিভাগীয় কমিশনার, রেঞ্জ ডিআইজি, জেলা প্রশাসক এবং পুলিশ সুপার একটি বিশেষ বৈঠক করেন। এরপর তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন। যদিও ফায়ার সার্ভিস ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ শুরুতে কোনো হতাহতের কথা জানায়নি, তবে অনেক রোগী ও স্বজনের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছিল। আগুনের চেয়েও ভবনের বিভিন্ন তলায় ছড়িয়ে পড়া ধোঁয়ার কারণেই এই আতঙ্ক আরও তীব্র হয় বলে মনে করছেন ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক পূর্ণ চন্দ্র মুৎসুদ্দী।