শিক্ষার প্রতি অদম্য আগ্রহ এবং অকল্পনীয় মেধায় বিশ্বজুড়ে আলোচনায় এসেছেন নিউজিল্যান্ডের নাগরিক জেমি বিটন। কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের জার্নালিজম স্কুলের সহযোগী অধ্যাপক লিসা বেলকিনের ক্লাসে একজন শিক্ষার্থীর অনুপস্থিতি থেকে জেমির এই বিস্ময়কর পরিচয় সামনে আসে। বেলকিন জানতে পারেন, মাত্র ২৮ বছর বয়সেই জেমি বিটন বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে একের পর এক উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করেছেন।
জেমির শিক্ষাগত সাফল্যের তালিকা দীর্ঘ। ২০১৬ সালে তিনি হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক শেষ করার পাশাপাশি অ্যাপ্লায়েড ম্যাথমেটিকসে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নেন। এরপর তিনি স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমবিএ এবং ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিষয়ে ডিগ্রি লাভ করেন। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে রোডস স্কলার হিসেবে তিনি পাবলিক পলিসিতে পিএইচডিও সম্পন্ন করেন। এছাড়া ইউনিভার্সিটি অব পেনসিলভানিয়া, প্রিন্সটন, ডার্টমাউথ, কিংস কলেজ এবং লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিভিন্ন বিষয়ে আরও বেশ কিছু স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন তিনি। বর্তমানে তিনি ব্রাউন ইউনিভার্সিটিতে ডেটা সায়েন্সে স্নাতকোত্তর পড়াশোনা করছেন। এই রেকর্ড তাকে বেঞ্জামিন বোলগার বা মাইকেল নিকলসনের মতো বহু ডিগ্রিধারীদের কাতারে নিয়ে গেছে।
পড়াশোনার পাশাপাশি জেমি একজন অত্যন্ত সফল উদ্যোক্তা। তিনি 'ক্রিমসন এডুকেশন' নামক একটি কলেজ ভর্তি পরামর্শদাতা প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা। বর্তমানে এই প্রতিষ্ঠানের বাজারমূল্য ৬০ কোটি মার্কিন ডলারেরও বেশি। শিক্ষার্থীদের বিশ্বের সেরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভর্তির পথ দেখাতে এই প্রতিষ্ঠানের ফি ৩০ হাজার থেকে ২ লাখ মার্কিন ডলার পর্যন্ত হয়ে থাকে। নিউজিল্যান্ডের সাবেক প্রধানমন্ত্রী জন কি বিজ্ঞানী আর্নেস্ট রাদারফোর্ডের পর জেমি বিটনকেই দেশটির অন্যতম সেরা মেধাবী হিসেবে বিবেচনা করেন।
জেমির এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে ছোটবেলার কঠোর পরিশ্রম ও পারিবারিক সমর্থন। নিউজিল্যান্ডের অকল্যান্ডে জন্ম নেওয়া জেমির বাবা-মায়ের বিচ্ছেদ ঘটে তাঁর জন্মের আগেই। মা পলা বিটন বিলাসিতার চেয়ে ছেলের পড়াশোনার পেছনেই বেশি অর্থ ব্যয় করেছেন। হাইস্কুলে দ্বিগুণ কোর্সের চাপ নিয়ে পড়াশোনা করে তিনি হার্ভার্ড, ইয়েল ও প্রিন্সটনের মতো ২৫টি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পান। হার্ভার্ডে পড়ার সময় তিনি ১৫টি ছাত্র সংগঠনে সক্রিয় ছিলেন এবং দ্বিতীয় বর্ষ থেকেই ওয়াল স্ট্রিটের হেজ ফান্ড 'টাইগার ম্যানেজমেন্ট'-এ কাজ শুরু করেন। পড়াশোনা ও ব্যবসা একই সঙ্গে চালিয়ে যাওয়ার এই অদম্য মানসিকতা তাঁকে আজ এই অবস্থানে পৌঁছে দিয়েছে।
ব্যক্তিগত জীবনে জেমি বর্তমানে স্ত্রী প্রিসিলা পুটজারের সঙ্গে ম্যানহাটানে বসবাস করেন। প্রিসিলার সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয় কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার সময়। অত্যন্ত ব্যস্ত জীবনযাপন করা এই তরুণ দিনে মাত্র ছয় ঘণ্টা ঘুমান। বড় বই পড়া, শিক্ষার্থীদের সহায়তা করা এবং রোলার কোস্টারে চড়ার মতো রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা তিনি পছন্দ করেন। ব্যবসায়িক কারণে ভারতে অবস্থানকালেও তিনি ব্রাউন ইউনিভার্সিটির প্রজেক্ট জমা দিয়ে তাঁর পড়াশোনার প্রতি একাগ্রতা প্রমাণ করেছেন।




