স্পেনের পরিবহন মন্ত্রী অস্কার পুয়েন্তে আনুষ্ঠানিকভাবে তার পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। রাজধানী মাদ্রিদের দক্ষিণ প্রান্তের উর্দা শহরের কাছে ঘটে যাওয়া এক ভয়াবহ উচ্চগতির ট্রেন সংঘর্ষের ছয় দিন পর এই সিদ্ধান্ত নিলেন তিনি। ওই দুর্ঘটনায় অন্তত ৬৯ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং বহু মানুষ গুরুতর আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কংগ্রেসের এক দীর্ঘ অধিবেশনে শুনানি শেষে পুয়েন্তে তার পদত্যাগের ঘোষণা দেন।

পদত্যাগের কারণ হিসেবে পুয়েন্তে উল্লেখ করেন, স্পেনের মতো দেশে এক বছরের কম সময়ের মধ্যে এই ধরনের দুটি মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটার পর একজন পরিবহন মন্ত্রীর পদে থাকা সমীচীন নয়। তিনি গত জানুয়ারিতে একই লাইনে ঘটে যাওয়া আরেকটি দুর্ঘটনার কথা স্মরণ করেন, যাতে ৪৬ জন নিহত হয়েছিলেন। গত সপ্তাহের এই সংঘর্ষটি ইউরোপের আধুনিক ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ এবং ২০১৩ সালের পর স্পেনের সবচেয়ে প্রাণঘাতী রেল দুর্ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

কংগ্রেসের অধিবেশনে নতুন রেল নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনার পর এবং বিরোধী দলের তীব্র সমালোচনার মুখে তিনি এই সিদ্ধান্ত নেন। অস্কার পুয়েন্তে কেবল মন্ত্রিত্বই ছাড়লেন না, বরং আগামী ২৯ নভেম্বরের আগাম আইনসভা নির্বাচনের প্রার্থী তালিকা থেকেও নিজের নাম সরিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

গত ২৮ অক্টোবরের দুর্ঘটনার পর থেকেই পুয়েন্তের পদ নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। রক্ষণশীল পিপলস পার্টি (PP) এবং ডানপন্থী ভক্স (Vox) সহ সরকারের কিছু সহযোগী দল তার পদত্যাগের দাবি জানিয়ে আসছিল। তাদের অভিযোগ, স্পেনের উচ্চগতির রেল ব্যবস্থা এখন অনিরাপদ এবং এর বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট হয়ে গেছে—এমনটি খোদ সমাজতান্ত্রিক প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজও স্বীকার করেছেন। বিরোধী দলগুলো আরও অভিযোগ করে যে, পুয়েন্তে দুর্ঘটনার জন্য মানবিক ত্রুটিকে দায়ী করে নিজের ব্যর্থতা ঢাকতে চেষ্টা করছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ২৯ নভেম্বরের সাধারণ নির্বাচনের আগে এই দুর্ঘটনা সমাজতান্ত্রিক নেতৃত্বাধীন সরকারের জন্য একটি বড় ধাক্কা। প্রধানমন্ত্রী সানচেজের জন্য এই পরিস্থিতিতে নির্বাচনে জয়লাভ করা কঠিন হয়ে পড়তে পারে। পুয়েন্তের মতে, তিনি 'রাজনৈতিক মর্যাদার' কথা বিবেচনা করেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

দুর্ঘটনাটির বিবরণ অনুযায়ী, রাষ্ট্রীয় অপারেটর রেনফে (Renfe)-এর একটি ট্রেনে ৩৯৭ জন যাত্রী এবং বেসরকারি অপারেটর ইরিয়ো (Iryo)-র একটি স্থির ট্রেনে ১৪৭ জন যাত্রী ছিলেন। স্বয়ংক্রিয় সিগন্যালিং সিস্টেমের কম্পিউটার ত্রুটির কারণে ওই রুটের ট্রেনগুলো থেমে গিয়েছিল। পরে ফাঁস হওয়া কিছু অডিও রেকর্ডিং থেকে জানা যায়, নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র থেকে রেনফে ট্রেনের চালককে স্বাভাবিক গতিতে এগিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, যদিও তার ২৫ কিলোমিটার সামনে ইরিয়ো ট্রেনটি স্থির দাঁড়িয়ে ছিল। ইরিয়ো ট্রেনের চালক নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রকে জানিয়েছিলেন যে তিনি ট্রেনটি সরাতে পারছেন না এবং নিরাপত্তা সিস্টেম কাজ করছে না। এর ফলে রেনফে ট্রেনটি পেছন থেকে স্থির ইরিয়ো ট্রেনটিকে সজোরে আঘাত করে।