যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে লাখো ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন। এই নির্বাচনের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে ডনাল্ড ট্রাম্পের প্রেসিডেন্সির বাকি দুই বছরে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে। বর্তমানে রিপাবলিকান পার্টির দখলে থাকা কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫টি এবং সেনেটের ৩৫টি আসনের পাশাপাশি বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের গভর্নর পদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ডেমোক্রেটরা এই সুযোগে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন পরিকল্পনা বাধাগ্রস্ত করা এবং কর্মকর্তাদের কর্মকাণ্ডের তদন্ত করার লক্ষ্য রাখছেন।

ভোটগ্রহণের প্রথম দিন থেকেই বেশ কিছু অঙ্গরাজ্যে নানা জটিলতা দেখা দিয়েছে। ফ্লোরিডার ব্রোওয়ার্ড কাউন্টিতে নতুন নিরাপত্তা ব্যবস্থার ত্রুটির কারণে ভোটগ্রহণ ২০ মিনিট বিলম্বিত হয়। নর্থ ক্যারোলাইনার সাতটি কাউন্টিতে প্রযুক্তিগত সমস্যার কথা জানা যাওয়ায় ভোটগ্রহণের সময় এক ঘণ্টা বাড়ানোর কথা ভাবছে নির্বাচন বোর্ড। নিউ ইয়র্কের ওয়েস্টচেস্টার কাউন্টিতে সফটওয়্যার আপডেটের পর ভোট গণনায় সমস্যা দেখা দিয়েছে। এছাড়া অ্যারিজোনার মারিকোপা কাউন্টিতে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায় একটি ভোটকেন্দ্র এবং পেনসিলভানিয়ায় যন্ত্রপাতির সমস্যার কারণে সময় ৩০ মিনিট বাড়ানো হয়েছে। ফ্লোরিডায় আকস্মিক বন্যায় ২১টি ভোটকেন্দ্র পরিবর্তন করতে হয়েছে এবং দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় অঙ্গরাজ্যগুলোতে ভারী বৃষ্টির কারণে ভোটারদের যাতায়াতে সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে।

অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবারের নির্বাচনে সবচেয়ে বড় প্রভাবক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। রয়টার্স ও ইপসোসের জরিপে দেখা গেছে, ৪৮% ভোটারের প্রধান চিন্তা জীবনযাত্রার ব্যয়। মার্কিন শ্রম বিভাগের সাম্প্রতিক তথ্যানুযায়ী, সেপ্টেম্বরে চাকরির শূন্য পদের সংখ্যা বেড়ে ৭৫ লাখে পৌঁছেছে, যা গত চার মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। তবে মূল্যস্ফীতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে মানুষের আয় বাড়ছে না, যার ফলে নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি সাধারণ ভোটারদের উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে ইরান যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানির দাম ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

ভোটের পরিবেশেও কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে। ওকলাহোমাতে সরকারি কর্মকর্তাদের কাছে সন্দেহজনক সাদা পাউডার মিশ্রিত চিঠি পাঠানোর অভিযোগে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। অন্যদিকে, স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো সবকটি অঙ্গরাজ্যে প্রায় ১ হাজার কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক নিয়োগ করেছে বিচার বিভাগ।

নির্বাচনের অন্যান্য দিক বিবেচনা করলে দেখা যায়, জর্জিয়া, মিনেসোটা, টেনেসি ও ওহাইও অঙ্গরাজ্যগুলো প্রথমবারের মতো নারী গভর্নর পেতে পারে। বিশেষ করে জর্জিয়ায় কেইশা ল্যান্স বটমস জয়ী হলে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ নারী গভর্নর হবেন। অন্যদিকে, মিশিগানে আবদুল এল-সায়েদ জয়ী হলে তিনি দেশটির প্রথম মুসলিম সেনেটর হিসেবে ইতিহাস গড়বেন।

রাজনৈতিক সমীকরণে রিপাবলিকানদের শক্তিশালী আর্থিক সমর্থন থাকলেও, ডেমোক্রেটদের জন্য জয়ের পথ সহজ নয়। তরুণ ও কৃষ্ণাঙ্গ ভোটারদের কম উপস্থিতি এবং রিপাবলিকানদের বিপুল নির্বাচনী তহবিল ডেমোক্রেটদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। অন্যদিকে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইসরায়েলকে দেওয়া বার্ষিক ৪০০ কোটি ডলারের সামরিক সহায়তা চলতি বছরের শেষ নাগাদ বন্ধ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে ট্রাম্প জানিয়েছেন, নির্বাচন সৎ হলে তিনি তা মেনে নেবেন।