বিশ্বের বৃহত্তম রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগ সংস্থা হিসেবে পরিচিত নরওয়ের সরকারি পেনশন তহবিল (গ্লোবাল) এখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বন্ডের মালিকানা কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আনুমানিক ২.৩ ট্রিলিয়ন ডলারের এই তহবিলটি বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে বড় রাষ্ট্রীয় সম্পদ তহবিল হিসেবে বিবেচিত। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা তাদের পোর্টফোলিওতে ঝুঁকি ও রিটার্নের নতুন ভারসাম্য তৈরি করতে চায়, যার অংশ হিসেবে আমেরিকার সরকারি বন্ডের অনুপাত হ্রাস করা হবে।
তহবিল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই পরিবর্তনের মাধ্যমে তারা নতুন খাতে বিনিয়োগের সুযোগ খুঁজবে, যেখানে বেশি ঝুঁকি থাকলেও সম্ভাব্য রিটার্নও তুলনামূলকভাবে বেশি। বর্তমান বাজার পরিস্থিতি এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক গতিপ্রকৃতি বিশ্লেষণ করে এই কৌশলগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। তবে কোন কোন নির্দিষ্ট খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো হবে বা কত পরিমাণ ট্রেজারি বন্ড বিক্রি করা হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বের সবচেয়ে বড় রাষ্ট্রীয় তহবিলের এই পদক্ষেপ বৈশ্বিক বন্ড বাজার ও ডলারের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের অন্যতম বড় ক্রেতা হিসেবে পরিচিত এই তহবিলের বিনিয়োগ কৌশলের পরিবর্তন আন্তর্জাতিক মুদ্রা বাজারেও নতুন গতির সৃষ্টি করতে পারে। নরওয়ের তহবিলটি দীর্ঘদিন ধরেই মূলত বন্ড ও শেয়ারে বিনিয়োগ করে আসছে, তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রিয়েল এস্টেট ও অবকাঠামোসহ বিকল্প খাতেও বিনিয়োগ বাড়িয়েছে।
এই সিদ্ধান্তের ফলে বিনিয়োগকারী মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে যে, ভবিষ্যতে তহবিলটি কোন কোন নতুন খাতকে অগ্রাধিকার দেবে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, উন্নয়নশীল বাজার, প্রযুক্তি বা নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ বাড়তে পারে, যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। তহবিলের দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য হলো তেল ও গ্যাস রাজস্বকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য টেকসই বিনিয়োগে রূপান্তর করা। ফলে ঝুঁকিপূর্ণ হলেও উচ্চ রিটার্নের খাতগুলোতে এই পরিবর্তনকে যুক্তিযুক্ত বলেই মনে করছে প্রতিষ্ঠানটি।
এখন পর্যন্ত তহবিলটির মোট সম্পদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ মার্কিন ট্রেজারি বন্ডে বিনিয়োগ করা ছিল। এই বন্ডগুলোকে বিশ্বের সবচেয়ে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে গণ্য করা হয়, কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে সুদের হার ও মুদ্রাস্ফীতির পরিবর্তনের কারণে এর রিটার্ন তুলনামূলকভাবে কমে এসেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এরই প্রেক্ষিতে তহবিলটি তাদের পোর্টফোলিও পুনর্বিন্যাসের সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা আগামী কয়েক মাসে বাস্তবায়িত হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানানো হয়েছে।



