ভারতের চলতি অর্থবছরের প্রথম ত্রৈমাসিকের (এপ্রিল-জুন) জিডিপি প্রবৃদ্ধির পরিসংখ্যান নিয়ে নতুন করে বিতর্ক দেখা দিয়েছে। সম্প্রতি এক প্রাক্তন সরকারি কর্মকর্তা দাবি করেছেন, প্রকাশিত জিডিপি হার প্রকৃত চিত্রের চেয়ে বেশি দেখানো হয়েছে। তাঁর এই মন্তব্যের পর পরিসংখ্যানটির নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিশ্লেষকদের একাংশ।
জানা গেছে, ওই ত্রৈমাসিকে ভারতের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাজার ও বিশ্লেষকদের প্রত্যাশাকে ছাড়িয়ে গিয়েছিল। কিন্তু প্রাক্তন ওই কর্মকর্তার বক্তব্য অনুযায়ী, তথ্য সংগ্রহ ও গণনা পদ্ধতিতে কিছু অসঙ্গতি থাকায় প্রকৃত প্রবৃদ্ধি প্রকাশিত হারের চেয়ে কম হতে পারে। তিনি আরও ইঙ্গিত দিয়েছেন, রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক চাপে পরিসংখ্যানকে উজ্জ্বল করে দেখানোর চেষ্টা হতে পারে।
তবে ভারতের পরিসংখ্যান সংস্থা বা সরকারের পক্ষ থেকে এখনো এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। অর্থনীতিবিদদের একাংশ বলছেন, জিডিপি পরিমাপের পদ্ধতি নিয়ে সময়ে সময়ে মতভেদ থাকলেও কোনো নির্দিষ্ট কর্মকর্তার ব্যক্তিগত অভিযোগের ভিত্তিতে পুরো পরিসংখ্যানকে অগ্রাহ্য করা উচিত নয়। অন্যদিকে, বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো এই বিতর্ককে হাতিয়ার করে সরকারের অর্থনৈতিক দাবির সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই বিতর্ক ভারতের সামষ্টিক অর্থনৈতিক নীতি প্রণয়নে প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে বৈদেশিক বিনিয়োগকারী ও আন্তর্জাতিক রেটিং সংস্থাগুলোর কাছে পরিসংখ্যানের স্বচ্ছতা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। যদি প্রাক্তন কর্মকর্তার দাবি সত্য হয়, তাহলে ভারতের প্রবৃদ্ধির গল্প নিয়ে নতুন করে যাচাইয়ের প্রয়োজন পড়বে বলে মনে করছেন অনেকে। তবে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো সরকারি তদন্ত বা পর্যালোচনার ঘোষণা আসেনি।
প্রসঙ্গত, গত কয়েক বছর ধরেই ভারতের জিডিপি হিসাব পদ্ধতি নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে। ২০১৫ সালে পরিসংখ্যানের ভিত্তি বছর পরিবর্তনের পর থেকেই এমন বিতর্ক মাঝে মাঝে মাথাচাড়া দেয়। এই প্রেক্ষাপটে সাম্প্রতিক অভিযোগটি নতুন করে পুরনো প্রশ্নকে সামনে এনেছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।


