যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার মুখেও চীনের প্রযুক্তি কোম্পানি হুয়াওয়ের সঙ্গে একটি নতুন অংশীদারিত্ব ঘোষণা করেছে মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এইচপি। এই চুক্তির আওতায় হুয়াওয়ের ওয়াইফাই প্রযুক্তি লাইসেন্স করার অধিকার পাবে এইচপি। এটি চীনের বাইরে হুয়াওয়ের প্রযুক্তি গ্রহণযোগ্যতা পাওয়ার একটি ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে, যদিও মার্কিন সরকার গুগলের মতো মার্কিন সরবরাহকারীদের সঙ্গে কাজ করা থেকে হুয়াওয়েকে নিষিদ্ধ করেছে।

প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, এই অংশীদারিত্বের মাধ্যমে হুয়াওয়ের প্রযুক্তি বিশ্ববাজারে আরও বিস্তৃত হওয়ার সুযোগ পাবে। মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে হুয়াওয়েকে অনেক পশ্চিমা কোম্পানি এড়িয়ে চললেও, এইচপির এই পদক্ষেপ প্রযুক্তি খাতে নতুন একটি দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করতে পারে। ধারণা করা হচ্ছে, লাইসেন্সিং চুক্তির ফলে হুয়াওয়ের ওয়াইফাই প্রযুক্তি ব্যবহার করে নতুন পণ্য বাজারে আনতে পারবে এইচপি, যা উভয় কোম্পানির জন্যই লাভজনক হতে পারে।

এই সিদ্ধান্তটি এমন এক সময়ে এলো যখন যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতা তীব্রতর হচ্ছে। বিশেষত সেমিকন্ডাক্টর ও টেলিকমিউনিকেশন খাতে হুয়াওয়েকে পিছিয়ে রাখতে নানা নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে ওয়াশিংটন। তবুও এইচপির মতো একটি বড় মার্কিন প্রতিষ্ঠান হুয়াওয়ের প্রযুক্তির সঙ্গে যুক্ত হওয়ায় নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। তবে এইচপি কর্তৃপক্ষ এখনও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি দেয়নি।

শিল্পসূত্রে জানা গেছে, এই লাইসেন্সিং চুক্তির মাধ্যমে হুয়াওয়ের উন্নত ওয়াইফাই প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিভিন্ন ডিভাইসে সংযোগের গতি ও স্থিতিশীলতা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে এইচপির। এতে করে হোম ও অফিস নেটওয়ার্কিং সরঞ্জাম থেকে শুরু করে প্রিন্টার ও ল্যাপটপের মতো পণ্যে হুয়াওয়ের প্রযুক্তি যুক্ত হতে পারে। অবশ্য এই চুক্তির আর্থিক বিবরণ বা শর্তাবলি সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এটি ভবিষ্যতে অন্যান্য মার্কিন কোম্পানির জন্যও একটি উদাহরণ হয়ে দাঁড়াতে পারে যে, রাজনৈতিক চাপের মধ্যেও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা সম্ভব। তবে এই অংশীদারিত্ব নিয়ে মার্কিন সরকারের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এখনও আসেনি। আগামী দিনে এই চুক্তির প্রভাব কতটা গভীর হয়, তা দেখার বিষয় হয়ে থাকল।