মানুষের গোপন পাপ, অনুতাপ এবং মুক্তি পাওয়ার আকুলতা নিয়ে আবারও মঞ্চে প্রদর্শিত হতে যাচ্ছে 'দ্য সি অব সাইলেন্স' নাটকটি। 'থেসপিয়ানস দ্য ঢাকা' নাট্যদলের এই বিশেষ আয়োজনটি আগামী বুধবার সন্ধ্যা সোয়া ৭টায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির এক্সপেরিমেন্টাল থিয়েটার হলে অনুষ্ঠিত হবে। নাটকটির পুরো রচনা এবং নির্দেশনার দায়িত্ব পালন করেছেন তাজউদ্দিন তাজু।
নাটকের কাহিনী আবর্তিত হয়েছে ভিয়েতনামের হাইফোং বন্দর থেকে লন্ডনের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়া একটি যাত্রীবাহী জাহাজকে কেন্দ্র করে। এই জাহাজে ভ্রমণ করছেন সোফিয়া ও ডেভিড দম্পতি এবং তাদের কিশোরী কন্যা জেনি। সমুদ্রের উত্তাল জলরাশিতে যাত্রার মাঝে এক ঝড়ো রাতে তাদের সম্পর্কের এক ভিন্ন রূপ সামনে আসে। আকাশের মেঘ এবং মাউথঅর্গানের করুণ সুরের মিশেলে তাদের মধ্যকার সম্পর্কের প্রচলিত সীমানা মুছে যেতে থাকে। গল্পের পরিক্রমায় ধীরে ধীরে উন্মোচিত হয় চরিত্রগুলোর স্মৃতি, ভয় এবং দীর্ঘদিনের চেপে রাখা গোপন অতীত। জাহাজের দুলুনির মতোই চরিত্রের জীবনে সন্দেহ, ভালোবাসা এবং অপরাধবোধের সংঘাত চলে, যা শেষ পর্যন্ত মুক্তির এক তীব্র আকাঙ্ক্ষায় রূপ নেয়।
নাটকটির মূল ভাবনা ও লক্ষ্য সম্পর্কে নির্দেশক তাজউদ্দিন তাজু জানান, এটি প্রেম, নৈতিকতা, রহস্য এবং সময়ের সীমানা ছাড়িয়ে যাওয়া এক মানবিক ট্র্যাজেডি। তিনি এই নাটকের মাধ্যমে ভালোবাসা, ক্ষমা এবং অপরাধবোধের মধ্যকার সূক্ষ্ম রেখাটি ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করেছেন। তাজুর মতে, সমুদ্রের বুকে ভেসে চলা জাহাজে মানুষ মূলত নিজেরই অন্ধকার দিক, ভয় এবং অতীতের মুখোমুখি হয়। লরেন্স, সোফিয়া, ডেভিড ও জেনির চরিত্রের মাধ্যমে তিনি পাপ, অনুতাপ এবং মুক্তির এক গোপন আখ্যান তুলে ধরেছেন। তিনি বিশ্বাস করেন যে, পাপ কখনো পুরোপুরি ডুবে যায় না; বরং স্মৃতির জল এবং সুরের মূর্ছনায় সেই পাপই একদিন ক্ষমার গান হয়ে বেজে ওঠে। মানুষের আত্মার পাপ থেকে অনুতাপ এবং অনুতাপ থেকে মুক্তির এই যাত্রাকেই তিনি মঞ্চে ফুটিয়ে তুলেছেন। দর্শকের মনে যদি এই নাটকটি এক মুহূর্তের জন্য গম্ভীর নীরবতা তৈরি করতে পারে, তবেই তিনি এটিকে সফল বলে মনে করবেন।
নাট্যদল 'থেসপিয়ানস দ্য ঢাকা' দর্শকদের জানিয়েছে যে, প্রদর্শনীর দিন নাটকের টিকিটগুলো এক্সপেরিমেন্টাল থিয়েটার হলের সামনে থেকে সংগ্রহ করা যাবে।




