বর্তমান যুগের জীবনধারা হয়ে দাঁড়িয়েছে বিছানা, অফিস এবং ঘরের চার দেয়ালের মধ্যে সীমাবদ্ধ। অধিকাংশ মানুষ তাদের দিনের প্রায় ৯৩ শতাংশ সময় কাটান ইনডোর বা ঘরের ভেতরে। মার্কিন টেলিভিশন ব্যক্তিত্ব অপরাহ উইনফ্রে এবং বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ড. জন লা পুমার এই পরিস্থিতিকে অভিহিত করেছেন 'ইনডোর এপিডেমিক' হিসেবে। ড. লা পুমার মতে, ঘরের ভেতরে অতিরিক্ত সময় কাটানোর ফলে মানুষ প্রাকৃতিক আলো, শারীরিক ব্যায়াম এবং প্রকৃতির সান্নিধ্য থেকে দূরে সরে যাচ্ছে, যা আমাদের মন-মেজাজ এবং সামগ্রিক সুস্থতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

ইতালীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন ইন্টারনিস্ট এবং 'কালিনারি মেডিসিন' ধারণার পথপ্রদর্শক ড. লা পুমা তাঁর নতুন গ্রন্থ 'ইনডোর এপিডেমিক'-এ আলোচনা করেছেন কীভাবে ঘরের ভেতরে দীর্ঘসময় অবস্থান করা আমাদের ঘুমের মান, মনোযোগ এবং মানসিক চাপের সাথে সম্পর্কিত। তবে এই সমস্যার সমাধান হিসেবে তিনি কোনো বড় ধরনের জীবনযাত্রার পরিবর্তনের কথা বলেননি; বরং প্রতিদিন মাত্র ১৭ মিনিট বাইরে কাটানোর একটি সহজ পরামর্শ দিয়েছেন।

এই ১৭ মিনিটের হিসাবটি এসেছে একটি বৈজ্ঞানিক গবেষণার সূত্র ধরে। ২০১৯ সালে 'সায়েন্টিফিক রিপোর্টস'-এ প্রকাশিত একটি গবেষণায় ইংল্যান্ডের প্রায় ২০ হাজার প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছিল। সেখানে দেখা গেছে, যারা সপ্তাহে অন্তত ১২০ মিনিট প্রকৃতির মাঝে কাটান, তাদের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার অনুভূতি অন্যদের চেয়ে অনেক বেশি। গবেষণায় আরও দেখা গেছে যে, সাপ্তাহিক এই সময়সীমা ২০০ থেকে ৩০০ মিনিটে নিলেও উপকারের পরিমাণ খুব একটা বৃদ্ধি পায় না। এই ১২০ মিনিটকে সাত দিনে ভাগ করলে প্রতিদিন গড়ে ১৭ মিনিটের কিছু বেশি সময় পাওয়া যায়, যা থেকে ড. লা পুমার এই পরামর্শের ভিত্তি তৈরি হয়েছে।

তবে চিকিৎসক সতর্ক করেছেন যে, অফিস থেকে গাড়িতে যাওয়ার মতো অনিচ্ছাকৃত বা যান্ত্রিক সময়কে এই হিসাবের অন্তর্ভুক্ত করা যাবে না। বরং উদ্দেশ্যমূলকভাবে প্রকৃতির কাছাকাছি সময় কাটাতে হবে। এই সময়টি কাটানোর জন্য খুব কঠিন কোনো রুটিনের প্রয়োজন নেই। বারান্দায় বসে চা খাওয়া, ফোনে কথা বলার সময় একটু হাঁটা, খাবারের পর স্বল্প সময়ের জন্য বাইরে বের হওয়া, পার্কে বই পড়া কিংবা ছাদ বাগান বা গাছের পাশে চুপচাপ বসে থাকাকেই এই সময়ের অংশ করা যেতে পারে।

উল্লেখ্য যে, ১৭ মিনিট সময়টি কোনো জাদুকরী সমাধান নয় যে এটি মুহূর্তেই সব দুশ্চিন্তা দূর করবে বা ঘুমের সমস্যা সারিয়ে দেবে। তবে নিয়মিত প্রকৃতির সংস্পর্শে থাকা মানসিক স্বস্তির সাথে গভীরভাবে সম্পৃক্ত। ডিজিটাল স্ক্রিনের অতিরিক্ত ব্যবহার কমিয়ে প্রতিদিন অল্প সময়ের জন্য হলেও খোলা আকাশ ও গাছপালার সান্নিধ্যে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।