মালয়েশিয়ায় পৌঁছে প্রথম দিনেই অনেক ভ্রমণকারী একটি অদ্ভুত দৃশ্য লক্ষ্য করেন। পথচারীকে জিজ্ঞেস করলে তিনি তর্জনী না তুলে ডান হাতের বুড়ো আঙুল দিয়ে দিক নির্দেশ করেন। প্রথমে এটি অপ্রাকৃত মনে হলেও কয়েক দিনের মধ্যেই বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে যায়—এই দেশে কোনো ব্যক্তি, বস্তু বা স্থানের দিকে ইঙ্গিত করতে তর্জনীর বদলে বুড়ো আঙুলই প্রচলিত। বাংলাদেশে তর্জনী তুলে নির্দেশ করা স্বাভাবিক, কিন্তু মালয়েশিয়ায় সেই একই অঙ্গভঙ্গি অসম্মানজনক বলে গণ্য হয়।
মালয় সংস্কৃতিতে সরাসরি আঙুল তোলাকে আক্রমণাত্মক, ঔদ্ধত্যপূর্ণ বা অশালীন আচরণ হিসেবে দেখা হয়। তাই স্থানীয়রা কাউকে কিছু দেখানোর সময় খোলা হাত বা ডান হাতের বুড়ো আঙুল ব্যবহার করেন। এই রীতি সম্পর্কে আগে থেকে জানা থাকলে বিদেশে অনিচ্ছাকৃত ভুল এড়ানো সম্ভব। ইউনিভার্সিটি অব নটিংহামের ওয়েবসাইটে মালয়েশিয়ায় পড়তে আসা শিক্ষার্থীদের জন্য দেশটির সামাজিক রীতিনীতি নিয়ে বিস্তারিত নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যেখানে তর্জনী ব্যবহার না করার পরামর্শও রয়েছে।
সম্প্রতি উচ্চশিক্ষার জন্য মালয়েশিয়ার মাসা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছেন বাংলাদেশের শিক্ষার্থী মুনিয়া ইসলাম। কুয়ালালামপুরে দিক নির্দেশনার সময় তর্জনী ব্যবহারের অভিজ্ঞতা তাঁরও হয়েছে। পরে তিনি বুঝতে পারেন, এখানকার রীতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। প্রথম আলোকে তিনি বলেন, 'দীর্ঘদিনের অভ্যাস। এখনো বুড়ো আঙুল দিয়ে কিছু নির্দেশ করার ক্ষেত্রে মাঝেমধ্যে ভুল হয়ে যায়।' তাঁর মতো অনেক বিদেশি শিক্ষার্থী প্রাথমিকভাবে এই সংস্কৃতির সঙ্গে খাপ খাওয়াতে সমস্যায় পড়েন।
শুধু মালয়েশিয়াতেই নয়, বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে তর্জনী ব্যবহারকে অসৌজন্যমূলক হিসেবে দেখা হয়। এমনকি ডিজনি পার্কের কর্মীদেরও এই অঙ্গভঙ্গি এড়িয়ে চলার প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। প্রয়োজন হলে তারা দুই আঙুল একসঙ্গে ব্যবহার করে নির্দেশ দেন। ভ্রমণকালে স্থানীয়দের আচরণ লক্ষ করা এবং নিজের দেশের অভ্যাস সব জায়গায় প্রয়োগ না করাই উত্তম। মালয়েশিয়ায় তাই কোনো কিছু দেখানোর প্রয়োজন হলে তর্জনীর বদলে খোলা হাত বা ডান হাতের বুড়ো আঙুল ব্যবহার করুন। এতে স্থানীয়দের কাছে আপনি ভদ্র ও সচেতন হিসেবে পরিচিত হবেন।




