মাগুরা সদর উপজেলার কেচুয়াডুবি গ্রামের বাসিন্দা আলেয়া খাতুনের বিদ্যুৎ বিলকে কেন্দ্র করে এক অবিশ্বাস্য ঘটনা ঘটেছে। সম্প্রতি তার বাড়িতে নতুন বিদ্যুৎ মিটার স্থাপনের পর প্রথম মাসের বিলে দেখা যায় ৫০৬ কোটি ৮৩ লাখ ১১ হাজার ৫৯৩ টাকা। এই অকল্পনীয় অঙ্কের বিল তৈরি হওয়ার পেছনে ছিল একটি বড় ধরনের প্রযুক্তিগত ভুল।
তদন্তে জানা গেছে, বিল তৈরির সময় কম্পিউটারের ডিমান্ড চার্জের ঘরে ভুলবশত মিটারের সিল নম্বরের অঙ্কগুলো বসানো হয়েছিল। ফলে ডিমান্ড চার্জের পরিমাণ দাঁড়িয়েছিল ৪৮২ কোটি ৬৯ লাখ ৬৩ হাজার ৪২২ টাকা। এর সঙ্গে যুক্ত হয় ২৪ কোটি ১৩ লাখ ৪৮ হাজার ১৭১ টাকা ভ্যাট এবং ১০ টাকা মিটার ভাড়া। বিলম্ব মাশুলসহ এই বিলের পরিমাণ ৫৩০ কোটি টাকারও বেশি হয়ে গিয়েছিল। অথচ ওই মাসে আলেয়া খাতুনের প্রকৃত বিদ্যুৎ ব্যবহার ছিল মাত্র ২৩৫ ইউনিট, যার নির্ধারিত বিল হওয়ার কথা ছিল ১ হাজার ৯৬৩ টাকা। পরে ভুলটি শনাক্ত করে বিলটি সংশোধন করে ১ হাজার ৯৩৮ টাকা করা হয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই অদ্ভুত খবরটি ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। দায়িত্ব পালনে চরম অবহেলার অভিযোগে সংশ্লিষ্ট জেনারেল ম্যানেজার এবং ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজারসহ মোট পাঁচজনকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি আরও কয়েক কর্মকর্তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নিজে গ্রাহক আলেয়া খাতুনকে ফোন করে দুঃখ প্রকাশ করেন।
এই ঘটনাটি প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে একটি বড় শিক্ষা দিয়ে গেল। কম্পিউটার অত্যন্ত দ্রুত হিসাব করতে পারলেও, ইনপুট হিসেবে ভুল তথ্য প্রদান করলে ফলাফল ভুল হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। ফলে প্রযুক্তির ওপর সম্পূর্ণ নির্ভর না করে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যগুলো মানুষের মাধ্যমে যাচাই করা অপরিহার্য।




