যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলেসে বাংলাদেশি-আমেরিকান কমিউনিটির ৩১টি সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত বাংলাদেশ ইউনিটি ফেডারেশন অব লস অ্যাঞ্জেলেসের (বাফলা) নতুন কমিটির প্রথম সাধারণ সভা সম্প্রতি অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (২১ আগস্ট) রাতে বাফলার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এই সভায় ঐক্য ও অন্তর্ভুক্তিমূলক কমিউনিটি গড়ার প্রত্য�় ব্যক্ত করেন নেতারা। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত চলা সভায় নির্বাহী কমিটির সদস্য, বোর্ড অব ট্রাস্টি, উপদেষ্টামণ্ডলী, বিভিন্ন কমিটির সদস্য এবং ৩১টি সদস্য সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। মাগরিবের নামাজের মাধ্যমে সন্ধ্যার কার্যক্রম শুরু হয়ে নৈশভোজ ও মতবিনিময়ের পর আনুষ্ঠানিক সভা অনুষ্ঠিত হয়।
‘স্টেট অব দ্য ফেডারেশন’ বক্তব্যে ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেন সভাপতি ইলিয়াস এম সিকদার। তিনি বলেন, বাফলা কোনো ব্যক্তি বা একটি ক্যাবিনেটের সংগঠন নয়; এটি পুরো কমিউনিটির। প্রজন্মের পর প্রজন্মের মানুষের সময়, শ্রম ও অর্থের বিনিময়ে বাফলা গড়ে উঠেছে। তিনি উল্লেখ করেন, ২০১২-১৩ মেয়াদে সাংগঠনিক সম্পাদক এবং ২০১৬-১৭ মেয়াদে সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালনের পর এবার সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পাওয়া তাঁর জন্য বড় সম্মান। নতুন মেয়াদে ব্যক্তিগত পার্থক্য ভুলে কমিউনিটির বৃহত্তর স্বার্থে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
নতুন নেতৃত্বের তিনটি বড় লক্ষ্য হিসেবে কমিউনিটি গড়ে তোলা, বাফলার প্রতিষ্ঠান সুরক্ষিত রাখা এবং সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করার কথা বলেন সভাপতি। সংগঠনের কার্যক্রমে গণতন্ত্র, সংবিধানের প্রতি শ্রদ্ধা, উন্মুক্ত যোগাযোগ এবং দলগতভাবে কাজ করার ওপর জোর দেন তিনি। মতের পার্থক্য থাকতে পারে, তবে ভিন্নমত প্রকাশের সুযোগ ও একে অপরের প্রতি সম্মান থাকা জরুরি বলেও মন্তব্য করেন তিনি। আর্থিক অবদানের ক্ষেত্রেও সমতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, কেউ অর্থ দিয়ে, কেউ সময় দিয়ে, কেউ দক্ষতা দিয়ে কমিউনিটিতে অবদান রাখেন—প্রতিটি অবদানেরই মূল্য রয়েছে।
নতুন ক্যাবিনেটের সদস্যদের পরিচয় তুলে ধরে সভাপতি জানান, এটি প্রেসিডেন্টের ক্যাবিনেট নয়, বাফলার ক্যাবিনেট। ভাইস প্রেসিডেন্ট দাউদ বাফাতিয়া, সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ নাসির জেবুল, অর্থ সম্পাদক ডা. রাসেল মাহমুদ জুয়েল, সাংগঠনিক সম্পাদক খোরশেদ আলম রতন, জনসংযোগ সম্পাদক মাসুক আল রায়হান এবং সাংস্কৃতিক সম্পাদক শায়লা রুমীর অভিজ্ঞতা ও ভূমিকার কথা তুলে ধরেন তিনি। নতুন মেয়াদে আর্থিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিতে ফাইন্যান্সিয়াল ওভারসাইট কমিটি গঠনের পরিকল্পনার কথাও জানানো হয়। ভাড়া সংগ্রহ, বাংলাদেশ ডে প্যারেডের ব্যয়, দাতব্য কার্যক্রমসহ সব আর্থিক কার্যক্রমের ওপর এই কমিটি নজরদারি করবে। অভিজ্ঞ ও তরুণ স্বেচ্ছাসেবকদের সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে সম্মিলিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
নতুন সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ নাসির জেবুল তাঁর বক্তব্যে পাঁচটি অগ্রাধিকার তুলে ধরেন—ঐক্য, সামাজিক ও মানবিক কার্যক্রম, নতুন প্রজন্ম, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি এবং সব শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণ। তিনি বলেন, মতপার্থক্য থাকা স্বাভাবিক, কিন্তু ব্যক্তিগত মত বা রাজনৈতিক অবস্থান যেন কমিউনিটির ঐক্যকে দুর্বল না করে। বাফলার দরজা সবার জন্য খোলা বলেও উল্লেখ করেন তিনি। কমিউনিটির মানুষের বিপদে পাশে দাঁড়ানো এবং জরুরি মানবিক সহায়তা কার্যক্রম সুসংগঠিত করার পরিকল্পনার কথা জানান তিনি।
নতুন প্রজন্মের সঙ্গে বাংলাদেশের ভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের যোগসূত্র রাখা এবং তাদের নেতৃত্বের জন্য প্রস্তুত করার ওপর জোর দেওয়া হয় সভায়। মেন্টরশিপ, পেশাগত নেটওয়ার্কিং, ক্যারিয়ার সুযোগ ও নেতৃত্ব বিকাশের কর্মসূচির পাশাপাশি ক্যালিফোর্নিয়া বাংলাদেশি ইয়ুথ কনভেনশনের মতো উদ্যোগ নিয়ে কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে। ‘বাংলাদেশ ডে প্যারেড’কে কমিউনিটির ঐক্য, ইতিহাস ও সংস্কৃতির প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করে সবাইকে এই আয়োজনে সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
নতুন নেতৃত্বের বক্তব্যে বাফলাকে ‘সেতু, বাধা নয়’ হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়। কমিউনিটির কোনো সংগঠন ইতিবাচক কাজ করলে তাকে সহযোগিতা ও প্রচার করার এবং বিভিন্ন সংগঠনের কর্মসূচির সমন্বয়ে একটি কমিউনিটি ক্যালেন্ডার চালুর পরিকল্পনার কথাও সভায় উঠে আসে। সভায় মাহবুব খান, জিয়াউর রহমান, রফিকুল ইসলাম, মোহাম্মদ হান্নান, ডা. আবুল হাশেম, বদরুল এ চৌধুরী, এম ওয়াহিদ রহমান, মাহবুবুর রহমান, শিপার চৌধুরী, হাবিব আহমেদ টিয়া, মোর্শেদ আলম, আবুল হাসনাত রায়হানসহ কমিউনিটির বিভিন্ন পর্যায়ের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। সবাই একসঙ্গে কাজ করলে ক্যালিফোর্নিয়ার অন্যতম শক্তিশালী ও সম্মানজনক বাংলাদেশি-আমেরিকান কমিউনিটি গড়ে তোলা সম্ভব বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন নেতারা।




