কুড়িগ্রাম জেলার উলিপুর উপজেলার ধরণীবাড়ি ইউনিয়নের কিশামত মধুপুর খামার গ্রামের পণ্ডিতপাড়া এলাকায় এক ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার ভোরে ওই এলাকার একটি শয়নকক্ষ থেকে মোকসেদ আলী ওরফে বাচ্চু মিয়ার (৬০) খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশি তদন্তে জানা গেছে, নিহত ব্যক্তি রংপুর মহানগরের মাহিগঞ্জ থানার নব্ধিগঞ্জ কলাবাড়ি এলাকার মৃত সজর উদ্দিন সরকারের সন্তান। তিনি সম্প্রতি গ্রামের বাড়িতে বেড়াতে এসেছিলেন এবং তার ভাতিজা মিঠু মিয়ার বাড়িতে অবস্থান করছিলেন।
উলিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শওকত আলীর দেওয়া তথ্যমতে, মঙ্গলবার রাতের কোনো এক সময়ে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডটি সংঘটিত হয়েছে বলে প্রাথমিক ধারণা করা হচ্ছে। রাত ২টা ২০ মিনিটের দিকে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বরে ফোন করে এই মর্মে জানানো হলে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং মরদেহ উদ্ধার করে। নিহতের বড় বোন মাজেদা বেগম তাকে শনাক্ত করেন।
ঘটনাস্থলে তদন্ত করতে গিয়ে উলিপুর থানার এসআই বাবুল হোসেন জানান, নিহতের শরীর কুপিয়ে অত্যন্ত নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। তবে এই হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এবং এতে জড়িতদের বিষয়ে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ঘটনার পর থেকে ভাতিজা মিঠু মিয়ার পরিবারের সদস্যরা রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়ে গেছেন। পুলিশ মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনের জন্য লাশটি কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করেছে।
স্থানীয় সূত্রে পুলিশ জানতে পেরেছে যে, মিঠু মিয়ার ২৫ বছর বয়সী ছেলে রাব্বি এই হত্যাকাণ্ডের সাথে সরাসরি জড়িত থাকতে পারে। বর্তমানে রাব্বিসহ পরিবারের বাকিরা আত্মগোপন করে আছে। ওসি শওকত আলী জানিয়েছেন, পুলিশ সব ধরণের সম্ভাবনা বিশ্লেষণ করে রহস্য উদঘাটনের চেষ্টা চালাচ্ছে এবং অপরাধীদের ধরতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। একই সাথে মামলা দায়ের ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।




