জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদল নেতা জোবায়েদ হোসেন খুনের এক বছর পূর্ণ হলেও এখনো মামলার বিচার শুরু হয়নি, যা তার পরিবার ও স্বজনদের জন্য চরম হতাশাজনক। গত বছরের ১৯ অক্টোবর পুরান ঢাকার আরমানিটোলায় এক ছাত্রীকে পড়াতে গিয়ে নির্মমভাবে ছুরিকাঘাতে খুন হন জোবায়েদ। ঘটনার পর তার বড় ভাই এনায়েত হোসেন সৈকত বংশাল থানায় মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ আট মাস তদন্তের পর ৩০ জুন তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই আশরাফ হোসেন তিনজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন জোবায়েদের ছাত্রী বার্জিস শাবনাম বর্ষা, মাহির রহমান এবং ফারদীন আহম্মেদ আয়লান। বর্তমানে এই তিন আসামি কারাগারে বন্দী রয়েছেন।

মামলাটি গত ১২ আগস্ট ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে বদলি করা হয় এবং বর্তমানে এটি বিংশতিতম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক মাজহারুল ইসলামের আদালতে বিচারাধীন। গত ১১ অক্টোবর অভিযোগ গঠনের শুনানির কথা থাকলেও তা পিছিয়ে ২৮ অক্টোবর ধার্য করা হয়েছে। একই দিনে আসামিদের জামিন আবেদন আদালত নাকচ করে দিয়েছেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী জাকির হোসেন খান জানান, আগামী ২৮ অক্টোবর অভিযোগ গঠন হয়ে গেলে দ্রুত সাক্ষ্য গ্রহণ করে বিচার প্রক্রিয়া শেষ করার চেষ্টা করা হবে।

এদিকে, দীর্ঘ সময় ধরে বিচারের অপেক্ষায় থাকা বাদী এনায়েত হোসেন সৈকত তার পরিবারের মানসিক কষ্টের কথা জানিয়েছেন। তিনি জানান, বাবা-মা প্রতিদিন ছেলের জন্য কাঁদেন এবং তারা জানতে চান বিচার ও রায় কবে হবে। সৈকত, যিনি বর্তমানে ঊনপঞ্চাশতম বিসিএসের শিক্ষা ক্যাডারে নিয়োগ পেয়েছেন, তিনি বলেন যে তার পরিবারের স্বপ্ন ছিল তাদের সব সন্তান উচ্চপদে চাকরি করবে, কিন্তু জোবায়েদের মৃত্যুতে সেই স্বপ্ন ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে। তিনি আসামিদের সর্বোচ্চ সাজা এবং দ্রুত বিচারের দাবি জানিয়েছেন।

মামলার মোড় নিয়ে আসামিদের আইনজীবীদের মধ্যে ভিন্ন মত দেখা গেছে। বর্ষার আইনজীবী নূর মাহাবুবুল আলমের দাবি, তার মক্কেল অন্যায়ের শিকার এবং তাকে জোরপূর্বক স্বীকারোক্তিতে বাধ্য করা হয়েছে। তিনি মনে করেন বর্ষার সঙ্গে মাহিরের কোনো সম্পর্ক ছিল না এবং তিনি আগামী শুনানিতে বর্ষার অব্যাহতির আবেদন জানাবেন। অন্যদিকে, মাহিরের আইনজীবী এম রাশেদুজ্জামান দাবি করেছেন যে, বর্ষা ও মাহিরের প্রেমের সম্পর্ক ছিল এবং পরবর্তীতে জোবায়েদের সঙ্গেও বর্ষার সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তাঁর দাবি অনুযায়ী, জোবায়েদ বর্ষার কিছু ব্যক্তিগত ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন, যার ফলে ভয় দেখাতে গিয়ে ঘটনাটি ঘটে।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, গত বছরের ১৯ অক্টোবর বিকেলে রৌশান ভিলায় টিউশনি করতে গিয়ে জোবায়েদ খুন হন। ঘটনার পর তার ছোট ভাই ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সহপাঠীদের মাধ্যমে তার পরিবার খবর পায়। পরবর্তীতে ঘটনাস্থলে গিয়ে তার রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।