বিশ্বের অন্যতম ধনী নারী হিসেবে পরিচিত অ্যালিস ওয়ালটনের সম্পদ যেভাবে বাড়ছে তা চমকপ্রদ। ফোর্বসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের মার্চ থেকে ২০২৬ সালের মার্চের মধ্যে তার মোট সম্পদের পরিমাণ ৩৩ বিলিয়ন ডলার বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে তার মোট নিট সম্পদ প্রায় ১২০ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এই সম্পদ বৃদ্ধি হয়েছে কোনো কোম্পানি পরিচালনা না করেই। তিনি ওয়ালমার্টের পরিচালনা পর্ষদের কোনো সদস্য নন, তবে পরিবারের হোল্ডিং কোম্পানিগুলোর মাধ্যমে এই খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানের একটি বড় অংশ নিয়ন্ত্রণ করেন।
ওয়ালমার্টের প্রতিষ্ঠাতা স্যাম ওয়ালটনের কনিষ্ঠ সন্তান অ্যালিস সরাসরি প্রায় ২ কোটি শেয়ারের মালিক, যার বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ২.২ বিলিয়ন ডলার। তবে তার মূল সম্পদ নিহিত রয়েছে পারিবারিক প্রতিষ্ঠান 'ওয়ালটন এন্টারপ্রাইজেস'-এ। ২০২৬ সালের প্রক্সি স্টেটমেন্ট অনুযায়ী, এই প্রতিষ্ঠানটি সরাসরি প্রায় ৩০ কোটি শেয়ার ধারণ করে এবং আরও ৫১ কোটি ৩০ লাখ শেয়ারের ভোটিং অধিকার নিয়ন্ত্রণ করে। ফলে ওয়ালমার্টের শেয়ার বাজারমূল্য বাড়ার সাথে সাথে তার ব্যক্তিগত সম্পদের পরিমাণও স্বয়ংক্রিয়ভাবে বৃদ্ধি পায়।
পেশাগত জীবনের শুরুতে অ্যালিস ওয়ালটন বিভিন্ন অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গেছেন। ১৯৭১ সালে ট্রিনিটি ইউনিভার্সিটি থেকে স্নাতক শেষ করে তিনি ওয়ালমার্টে শিশুদের পোশাক ক্রেতা হিসেবে কাজ শুরু করেন। পরবর্তীতে তিনি ই.এফ. হাটনে স্টক ব্রোকার হিসেবে এবং পরিবারের ব্যাংক 'আর্ভেস্ট'-এর বিনিয়োগ কার্যক্রম পরিচালনা করেন। ১৯৮৮ সালে তিনি নিজস্ব বিনিয়োগ ব্যাংক 'লামা কো.' প্রতিষ্ঠা করলেও ১৯৯৮ সালের বন্ড মার্কেটের ধসের পর তা বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে তিনি একজন শিল্প পৃষ্ঠপোষক এবং মানবহিতৈষী হিসেবে নিজেকে নিয়োজিত করেছেন।
বর্তমানে তার প্রধান লক্ষ্য হলো চিকিৎসা বিজ্ঞান ও জনসেবা। ২০২১ সালে তিনি আরকানসাসের বেন্টনভিলে 'অ্যালিস এল. ওয়ালটন স্কুল অফ মেডিসিন' প্রতিষ্ঠা করেন। এই চার বছর মেয়াদি ডিগ্রি প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের জন্য তিনি ২৫০ মিলিয়ন ডলার অনুদান দিয়েছেন। ২০২৫ সালে এই স্কুলটি প্রথম ৪৮ জন শিক্ষার্থী নিয়ে যাত্রা শুরু করে। প্রতিষ্ঠানটি প্রথম পাঁচটি ব্যাচের জন্য টিউশন ফি সম্পূর্ণ মকুব করেছে, যদিও শিক্ষার্থীদের অন্যান্য ফি এবং জীবনযাত্রার খরচ বহন করতে হয়। চিকিৎসক তৈরির প্রচলিত ব্যবস্থার সমালোচনা করে তিনি পিবিএস নিউজআওয়ারকে বলেন, বর্তমান পেমেন্ট সিস্টেমে পুষ্টি বা ব্যায়ামের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে রোগীদের সময় দেওয়ার কোনো প্রণোদনা চিকিৎসকদের দেওয়া হয় না, কারণ এই বিষয়গুলো তাদের শেখানো হয় না।
চিকিৎসা শিক্ষার পাশাপাশি তিনি স্বাস্থ্যসেবার প্রসারেও বিনিয়োগ করছেন। গত ১৭ সেপ্টেম্বর 'অ্যালিস এল. ওয়ালটন ফাউন্ডেশন' একটি নতুন হেলথ ক্যাম্পাসের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছে, যা মার্সি হেলথ সিস্টেম এবং ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিকের সাথে যৌথভাবে তৈরি হবে। এই প্রকল্পের জন্য তার ফাউন্ডেশন ৩৫০ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দ করেছে, যার আওতায় একটি ২৫০ শয্যার হাসপাতাল এবং একটি ক্যান্সার সেন্টার গড়ে তোলা হবে। এছাড়া ২০২৯ সালের মধ্যে হৃদরোগ সেবার জন্য একটি বিশেষ কেয়ার সেন্টার চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকার মানুষের জন্য আধুনিক প্রযুক্তি ও গবেষণার মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবা সহজলভ্য করাই তার এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।




