যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আর্থিক হিসাবের খতিয়ান থেকে জানা গেছে, গত জুলাই মাসেই তিনি ১,১০০-র বেশি শেয়ার লেনদেন করেছেন। ওয়াল স্ট্রিটের অভিজ্ঞ ব্যক্তিত্ব এবং বর্তমান ট্রেজারি সচিব স্কট বেসেন্টের পুরো বছরের মোট লেনদেনের তুলনায় এটি প্রায় ৪০ গুণ বেশি। অফিস অফ গভর্নমেন্ট এথিকস-এ জমা দেওয়া এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, জুলাই মাসে ট্রাম্পের নামে থাকা অ্যাকাউন্টগুলো থেকে মোট ১,১৫৬টি লেনদেন সম্পন্ন হয়েছে, যার মধ্যে ৪৪০টি কেনাকাটা এবং ৭১৬টি বিক্রয় ছিল।
ফর্চুন-এর বিশ্লেষণে এই লেনদেনের মোট আর্থিক মূল্য সর্বনিম্ন ৭ কোটি ৯০ লাখ ডলার থেকে সর্বোচ্চ ২৭ কোটি ডলার পর্যন্ত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যদিও প্রতিটি পৃথক লেনদেনের সঠিক অংক প্রকাশ করা হয়নি। অন্যদিকে, ট্রেজারি সচিব স্কট বেসেন্ট ২০২৫ সালে মাত্র ২৯টি লেনদেনের কথা জানিয়েছেন, যার সবগুলোই ছিল সম্পদ বিক্রয়। এর মধ্যে তার প্রতিষ্ঠিত হেজ ফান্ড 'কি স্কয়ার' এবং ভেরাইজন ও আর্চার-ড্যানিয়েলস-মিডল্যান্ডের মতো কোম্পানির শেয়ার বিক্রির বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত ছিল। নতুন দায়িত্ব গ্রহণের সময় বেসেন্ট এমন সব সম্পদ ত্যাগ করতে সম্মত হয়েছিলেন, যা তার পদের সাথে সাংঘর্ষিক হতে পারে।
ট্রাম্পের এই বিপুল পরিমাণ লেনদেনের বিষয়ে হোয়াইট হাউসের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্টের সম্পদ তার সন্তানদের দ্বারা পরিচালিত একটি ট্রাস্টের অধীনে রয়েছে। এই বিপুল লেনদেনের কারণ হিসেবে কম্পিউটার-চালিত মডেল পোর্টফোলিও-র কথা বলা হয়েছে, যা স্বয়ংক্রিয়ভাবে 'শোয়াব ১০০০'-এর মতো স্বীকৃত সূচকগুলোকে অনুসরণ করে লেনদেন করে। উল্লেখ্য, মার্কিন ফেডারেল আইন (১৮ ইউএস কোড ২০৮) অনুযায়ী সরকারি কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত আর্থিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট কাজে বাধা থাকলেও, এই নিয়ম প্রেসিডেন্ট এবং ভাইস প্রেসিডেন্টের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।
প্রেসিডেন্টের দ্বিতীয় মেয়াদে এই লেনদেনের পরিমাণ আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। সরকারি নথিতে দেখা গেছে, দ্বিতীয়বার দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম বছরেই তার অ্যাকাউন্ট থেকে ২১,০০০-র বেশি লেনদেন করা হয়েছে। সাধারণত মার্কিন প্রেসিডেন্টরা দায়িত্ব পালনকালে সক্রিয়ভাবে ব্যক্তিগত সিকিউরিটিজ পোর্টফোলিও পরিচালনা করেন না। ১৯৭৮ সালের এথিকস ইন গভর্নমেন্ট অ্যাক্টের পর থেকে আধুনিক যুগের সব প্রেসিডেন্টই হয় 'ব্লাইন্ড ট্রাস্ট' গ্রহণ করেছেন অথবা পারস্পরিক সংঘাতমুক্ত মিউচুয়াল ফান্ডের মতো সম্পদে বিনিয়োগ সীমিত রেখেছেন বলে জানান অফিস অফ গভর্নমেন্ট এথিকস-এর প্রাক্তন পরিচালক ওয়াল্টার শুব।
ট্রাম্পের এই কার্যক্রমের তীব্র সমালোচনা করেছেন সিনেটর এলিজাবেথ ওয়ারেন এবং প্রতিনিধি রবার্ট গার্সিয়ার মতো রাজনীতিবিদরা। তারা একটি চিঠিতে প্রশ্ন তুলেছেন যে, সরকারি কর্মকাণ্ডের গোপন তথ্য বা প্রেসিডেন্টের বিশেষ ক্ষমতা ব্যবহার করে ব্যক্তিগত লাভের জন্য বাজার প্রভাবিত করা হচ্ছে কি না। তবে এই বিতর্কের মাঝেই ট্রাম্প কংগ্রেস সদস্যদের শেয়ার লেনদেনের ওপর নতুন বিধিনিষেধের সমর্থন জানিয়েছেন। জুলাই মাসে তার প্রশাসন 'স্টপ ইনসাইডার ট্রেডিং অ্যাক্ট'-এর প্রতি জোরালো সমর্থন জানায়, যা কংগ্রেস সদস্য ও তাদের পরিবারের জন্য নির্দিষ্ট কোম্পানির শেয়ার কেনা নিষিদ্ধ করবে। হাউস এই বিলটি পাস করলেও এটি বর্তমানে সিনেটে বিবেচনাধীন। তবে এই বিলের বিধিনিষেধও প্রেসিডেন্ট এবং ভাইস প্রেসিডেন্টের ক্ষেত্রে কার্যকর হবে না।




