বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিসের সদস্যদের জন্য বাণিজ্যিক কোচিং কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। সোমবার সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচার শাখা থেকে এই নির্দেশনা প্রদান করা হয়। সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান সিদ্দিকীর স্বাক্ষরিত একটি পরিপত্রের মাধ্যমে এই আদেশ কার্যকর করা হয়েছে।
বিচার বিভাগের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা বজায় রাখা, পেশাগত মর্যাদা এবং বিচারকদের নিরপেক্ষতা ও শৃঙ্খলা সমুন্নত রাখার উদ্দেশ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিসের কোনো সদস্য প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কোনো বাণিজ্যিক কোচিং সেন্টারের সঙ্গে যুক্ত হতে পারবেন না। এটি সরাসরি ক্লাসরুম বা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম—উভয় মাধ্যমেই প্রযোজ্য হবে।
শুধু সম্পৃক্ততাই নয়, বাণিজ্যিক কোচিংয়ের প্রচারণায় কোনো বিচারকের নাম, ছবি, পদবি বা পরিচয় ব্যবহার করার ওপরও সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। কোনো বিচারক নিজেই নিজের পরিচয় ব্যবহারে অনুমতি দিতে পারবেন না। এর পাশাপাশি, বিচারিক দায়িত্ব পালনকালে প্রাপ্ত কোনো গোপনীয় দাপ্তরিক তথ্য বা অপ্রকাশিত নথি কোচিংয়ের কাজে ব্যবহার, সরবরাহ কিংবা প্রকাশ করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
তাছাড়া, বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে কোচিংয়ের জন্য প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ তৈরি, সম্পাদনা, প্রকাশ বা সরবরাহের কাজেও বিচারকদের যুক্ত হওয়ার সুযোগ নেই। পরিপত্রে স্পষ্টভাবে সতর্ক করা হয়েছে যে, যদি কোনো সদস্য এই নির্দেশনা অমান্য করেন, তবে তার বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন এবং শৃঙ্খলা সংক্রান্ত বিধি মোতাবেক যথাযথ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।




