চট্টগ্রাম নগরের স্টেশন রোডে পর্যটন করপোরেশনের হোটেল সৈকতে সোমবার সন্ধ্যায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সাংগঠনিক সমন্বয় সভা ও রাজনৈতিক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। চট্টগ্রাম মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা শাখার যৌথ আয়োজনে এই সভা সম্পন্ন হয়। সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে দলের কেন্দ্রীয় মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম এবং যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার বক্তব্য রাখেন।
মালয়েশিয়ায় জনশক্তি রপ্তানি বিষয়ে সারজিস আলম গুরুতর অভিযোগ উত্থাপন করেন। তিনি জানান, পাঁচ লাখ জনশক্তি নেওয়ার কথা বলা হচ্ছে। অথচ আওয়ামী লীগ সরকারের সময় সিন্ডিকেটে জড়িতদের একটি অংশ এবং বর্তমান বিএনপি সরকারের একটি অংশ মিলে নতুন করে পঁচিশ জনের একটি সিন্ডিকেট গঠন করেছে। তাঁর দাবি, মালয়েশিয়ার এই চুক্তির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ কয়েকজন ব্যক্তি জড়িত রয়েছেন বলেও তিনি শুনতে পাচ্ছেন। একই সঙ্গে পে-স্কেল বাস্তবায়নের বিলম্ব নিয়েও তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের গ্রেড ওয়ান থেকে গ্রেড টোয়েন্টি পর্যন্ত বেতন দিয়ে মাসের পনেরো তারিখের পর সংসার চালানো সম্ভব হয় না বলে তিনি উল্লেখ করেন। পনেরো তারিখের পর থেকে ধারদেনা শুরু হয়। ছয় মাস ধরে ‘করছি, করব’ বলে কালবিলম্ব করা হচ্ছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বক্তব্য দেন। তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর জঙ্গল সলিমপুরে যাওয়াকে ‘ফিল্মি স্টাইল’ হিসেবে বর্ণনা করেন। তাঁর মতে, মন্ত্রীর উপস্থিতির পর মনে হয়েছে যে ওই এলাকাটি রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণের বাইরে ছিল এবং মন্ত্রী আসার পরই তা নিয়ন্ত্রণে এসেছে। অথচ এর অদূরে রাউজানে মন্ত্রীদের যাওয়ার কোনো সময় হয় না, কারণ সেখানে কোনো রাজনৈতিক প্রচার বা ক্লিকবেটের সম্ভাবনা নেই। তুষার আরও বলেন, রাউজানে বর্তমানে ‘ওপেন ফায়ারিং’ অব্যাহত রয়েছে। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর দলীয় কোন্দল, দখল ও আধিপত্য বিস্তারের কারণে অন্তত বিশজনের বেশি মানুষ হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। এই পরিস্থিতি আরও অবনতি হতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন। চট্টগ্রামের মন্ত্রী হিসেবে যদি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা ঠিক করতে ব্যর্থ হন, তাহলে সারা দেশের অবস্থা কী হতে পারে তা বলার অপেক্ষা রাখে না—এমন মন্তব্যও করেন তিনি।
বর্ষা ও জলাবদ্ধতা প্রসঙ্গে সারজিস আলম বলেন, বর্ষা শেষ হয়ে এখন শরৎ ও শীতের দিকে দেশ অগ্রসর হচ্ছে। তবে সিটি করপোরেশনের প্রশাসক, স্থানীয় সংসদ সদস্য ও মেয়রদের স্মৃতিশক্তি লোপ পাচ্ছে। বিশেষ করে চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতার ভয়াবহতা তাঁদের মনে থাকছে না। পরবর্তী বর্ষা এলে আবারও একই চিত্র দেখা যেতে পারে। তখন তাঁরা জামাকাপড় পরে শুটিংয়ের জন্য হাঁটু বা কোমর পরিমাণ পানিতে নামবেন। ২০২৭ সালের নির্বাচনের আগে এমন নাটকীয়তা আর দেখতে চান না বলেও তিনি স্পষ্ট করেন।




