কিশোর-কিশোরীদের জন্য হোয়াটসঅ্যাপের ব্যবহার আরও নিরাপদ এবং বয়সোপযোগী করতে নতুন 'প্যারেন্টাল কন্ট্রোল' সুবিধা চালু করেছে এই জনপ্রিয় মেসেজিং অ্যাপ। বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন দেশের সরকার এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে শিশুদের অনলাইন সুরক্ষা নিশ্চিত করতে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর চাপ বৃদ্ধি পাওয়ায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

নতুন এই ফিচারের ফলে অভিভাবকরা এখন থেকে তাদের সন্তানদের অ্যাকাউন্টের বিভিন্ন গোপনীয়তা বা প্রাইভেসী সেটিংস নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন। যেমন—কারা সন্তানের প্রোফাইল ছবি দেখতে পাবে কিংবা কে তাকে কোনো গ্রুপে যুক্ত করতে পারবে, তা অভিভাবকরাই নির্ধারণ করে দিতে পারবেন। এছাড়া সন্তান কোনো নির্দিষ্ট গ্রুপে যোগ দিলে অথবা গ্রুপ থেকে বেরিয়ে গেলে অভিভাবকরা সে বিষয়ে বিজ্ঞপ্তি পাবেন। পাশাপাশি হোয়াটসঅ্যাপের 'চ্যানেলস' ফিচারের ব্যবহার পদ্ধতিও নিয়ন্ত্রণ করার সুযোগ থাকবে অভিভাবকদের।

তবে ব্যক্তিগত গোপনীয়তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে হোয়াটসঅ্যাপ নিশ্চিত করেছে যে, প্যারেন্টাল কন্ট্রোল চালু থাকলেও অভিভাবকরা সন্তানের ব্যক্তিগত বার্তা পড়তে পারবেন না। একইভাবে ফোনকলের ক্ষেত্রেও কোনো হস্তক্ষেপ করা সম্ভব হবে না। ব্যবহারকারীদের আদান-প্রদান করা সব বার্তা ও কল আগের মতোই 'এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন' প্রযুক্তির মাধ্যমে সুরক্ষিত থাকবে।

প্রযুক্তির আধুনিকায়নের সাথে তাল মিলিয়ে অভিভাবকরা এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা 'মেটা এআই' সহকারীর ব্যবহারও নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন। এর জন্য ডিফল্ট '১৩+' সেটিংস থেকে 'লিমিটেড কনটেন্ট' অপশনটি নির্বাচন করতে হবে। উল্লেখ্য যে, এই প্যারেন্টাল কন্ট্রোল সুবিধাটি ব্যবহার করা বাধ্যতামূলক নয়, বরং এটি সম্পূর্ণ ঐচ্ছিক। অভিভাবকরা চাইলে যেকোনো সময় এই সুবিধা বন্ধ করতে পারবেন, তবে কিশোর-কিশোরীরা নিজেদের ইচ্ছায় এটি নিষ্ক্রিয় করতে পারবে না।

যদিও হোয়াটসঅ্যাপ এই নতুন ফিচারের কথা জানিয়েছে, তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বিশ্লেষক ম্যাট নাভারা এর কার্যকারিতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। তাঁর মতে, এই ব্যবস্থাটি মূলত মেটার জন্য সুবিধাজনক হতে পারে, কারণ এতে ব্যবহারকারীদের বয়স যাচাই করার কঠোর দায়ভার কিছুটা কমে আসবে। পাশাপাশি কিশোর-কিশোরীদের অনলাইন নিরাপত্তার একটি বড় দায়িত্ব এখন সরাসরি অভিভাবক ও ব্যবহারকারীদের ওপর বর্তাবে।