দেশের বিভিন্ন প্রান্তে কিশোর গ্যাংয়ের প্রভাব ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি পাওয়ায় তা নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে সরকার। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় রোববার এক বার্তায় জানিয়েছে, এই সমস্যা মোকাবিলায় প্রতিটি উপজেলায় পৃথক কমিটি গঠন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এই কমিটির সভাপতি এবং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সদস্য-সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। মন্ত্রণালয়ের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানিয়েছেন, কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যাওয়ায় এই প্রশাসনিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন জেলায় কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে ব্যাপক অভিযান চালানো হয়েছে। গত সপ্তাহে কুমিল্লায় কিশোর গ্যাং সন্দেহে পাঁচ শতাধিক এবং চাঁদপুরে ৭৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এছাড়া গত ৬ অক্টোবর ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরে পরিচালিত এক অভিযানে ৪২ জন কিশোরকে আটক করা হয়, যাদের পরবর্তীতে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। কিশোর গ্যাংয়ের অভ্যন্তরীণ রেষারেষি ও 'সিনিয়র-জুনিয়র' দ্বন্দ্বের কারণে গত মাসে চট্টগ্রামে হৃদয় (১৬) নামের এক সবজি বিক্রেতাকে খুনের ঘটনাটি সামনে এসেছে, যা এই সমস্যার ভয়াবহতা ফুটিয়ে তোলে।
কেন্দ্রীয় কারা অধিদপ্তরের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, কিশোর গ্যাং সন্দেহে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের সংখ্যা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাওয়ায় বর্তমানে কারাগারগুলোতে ধারণক্ষমতার ওপর চাপ সৃষ্টি হয়েছে। এদিকে ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ সেপ্টেম্বর মাসে একটি অনুষ্ঠানে ঘোষণা করেছিলেন যে, মিরপুর, মোহাম্মদপুর ও পল্লবীর মতো এলাকাগুলো থেকে কিশোর গ্যাংয়ের অস্তিত্ব সম্পূর্ণ মুছে ফেলা হবে। তিনি নির্দিষ্ট কিছু স্পটে অভিযান আরও জোরদার করার নির্দেশ দিয়েছেন এবং প্রয়োজনীয় জনবল বরাদ্দের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তাঁর মতে, র্যাব ও পুলিশের যৌথ অভিযানের মাধ্যমে কিশোর গ্যাংয়ের প্রভাব পুরোপুরি নির্মূল করা হবে।




