খুলনা রেলওয়ে স্টেশনের দেয়ালে অঙ্কিত বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতিকৃতি কালি দিয়ে ঢেকে দেওয়ার এক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা সামনে এসেছে। গত শুক্রবার দুপুরে বিষয়টি সাধারণ মানুষের দৃষ্টিগোচর হয়। খুলনা সিটি করপোরেশনের (কেসিসি) উদ্যোগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের খুলনা সফরের কথা মাথায় রেখে রেলস্টেশনের দেয়ালে বিভিন্ন গ্রাফিতি আঁকা হয়েছিল। সেখানে জুলাই অভ্যুত্থান, সুন্দরবন, পাটশিল্প এবং ষাটগম্বুজ মসজিদের পাশাপাশি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলামসহ ওই অঞ্চলের শিল্প-সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে অবদান রাখা বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের প্রতিকৃতি ফুটিয়ে তোলা হয়।

ঘটনাস্থলে দেখা গেছে, পুরাতন যশোর রোডের সংলগ্ন দেয়ালে মাইকেল মধূসুদন দত্ত, চিত্রশিল্পী এস এম সুলতান, ফকির লালন সাঁই, কাজী নজরুল ইসলাম, সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার প্রতিকৃতি ছিল। তবে আশ্চর্যজনকভাবে কেবল রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গ্রাফিতিটিতেই কালি লেপন করা হয়েছে। পাশাপাশি সেখানে দুটি প্রচারপত্র লাগানো ছিল। একটি পোস্টারে ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা’ শিরোনামে কিছু উক্তির পাশাপাশি লেখা ছিল, ‘তিতুমীরের বাংলায়, মুসলিম ও পূর্ব বাংলা বিদ্বেষী রঠার ঠাঁই নাই/ভারত বন্দনার ঠাঁই নাই’।

এই অশালীন আচরণের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু। তিনি বলেন, এই প্রতিকৃতিগুলো শিশু-কিশোরদের মুক্তচিন্তার বিকাশে সহায়ক। কালি লেপন করার মাধ্যমে কিছু মানুষ তাদের অসুস্থ মানসিকতা এবং সংকীর্ণ মনন প্রদর্শিত করেছে। অন্যদিকে, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক ফোরাম খুলনার আহ্বায়ক কাজল ইসলাম মনে করেন, বর্তমানে রবীন্দ্রনাথের কর্মকে রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখার একটি প্রবণতা তৈরি হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন যে, রবীন্দ্রনাথের সাহিত্য ও দর্শন যুগে যুগে মানুষকে মানবিক মর্যাদা, অসাম্প্রদায়িকতা এবং মুক্তচিন্তার শিক্ষা দিয়ে আসছে। তবে কিছু তরুণকে ভুল বুঝিয়ে এ ধরনের নোংরামি করানো হচ্ছে, যার বিরুদ্ধে সব পক্ষকে একজোট হতে হবে বলে তিনি আহ্বান জানান।

এদিকে, খুলনা সদর থানার ওসি লোকমান হোসেন জানান, শুক্রবার বিকেলে বিষয়টি জানতে পেরে তারা তদন্ত শুরু করেছেন। তবে ঘটনার সময় রাস্তার বিপরীত পাশের দোকানপাট বন্ধ থাকায় কারা এই কাজটি করেছে তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা সম্ভব হয়নি। উল্লেখ্য যে, এর আগে গত ১০ অক্টোবর রাজধানী ঢাকায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গ্রাফিতির মুখে কালি দেওয়ার একটি ঘটনা ঘটেছিল। ওই ঘটনায় রাষ্ট্র সংলাপ ফোরামের সদস্যসচিব আল নূর মোহাম্মদ আয়াশসহ চারজনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছিল।