দশক পেরিয়ে গেলেও গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে তিন সাঁওতাল হত্যার বিচার প্রক্রিয়ায় কোনো অগ্রগতি হয়নি। মামলার কোনো অভিযুক্ত এখন পর্যন্ত গ্রেপ্তার হননি এবং হামলায় ঘরবাড়ি হারানো পরিবারগুলো প্রয়োজনীয় ক্ষতিপূরণ থেকেও বঞ্চিত রয়ে গেছে। শুক্রবার দুপুরে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার সাহেবগঞ্জে ‘সাঁওতাল হত্যা দিবস’ পালনের লক্ষ্যে আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশে এই বিষয়গুলো জোরালোভাবে উত্থাপন করা হয়।
সমাবেশে এলআরডির নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা অভিযোগ করেন যে, ২০১৬ সালের সেই নৃশংস ঘটনার পর সরকার বিভিন্ন সময়ে আশ্বাস প্রদান করলেও বাস্তবে তার কোনো প্রতিফলন ঘটেনি। তিনি জানান, হামলায় আহত অনেক ব্যক্তি যথাযথ চিকিৎসা না পাওয়ার কারণে বর্তমানে পঙ্গু হয়ে গেছেন। অনেকের শরীরে এখনো গুলির স্প্লিন্টার রয়ে গেছে, যার ফলে তারা স্বাভাবিকভাবে কাজ করতে পারছেন না এবং চরম অর্থকষ্টের মধ্যে জীবনযাপন করছেন।
সাহেবগঞ্জ-বাগদাফার্ম ভূমি উদ্ধার সংগ্রাম কমিটির সভাপতি ফিলিমন বাস্কের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে আরও কথা বলেন কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ফারহা তানজীম, এলআরডির প্রোগ্রাম ম্যানেজার রফিক আহমেদ সিরাজী, আদিবাসী নেত্রী বিচিত্রা তিরকি এবং গোলাম রব্বানী মুসাসহ স্থানীয় আদিবাসী নেতৃবৃন্দ। বক্তারা জানান, সাঁওতাল অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে এখনো ভূমি দখলের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। ফিলিমন বাস্কে নিহত তিন সাঁওতাল হত্যার দ্রুত বিচার, পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার এবং ক্ষতিগ্রস্তদের যথাযথ ক্ষতিপূরণ দেওয়ার পাশাপাশি তাদের জমি ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানান।
ঘটনার দিন সকালে জয়পুর গ্রামের একটি অস্থায়ী শহীদ বেদিতে ফুল দিয়ে ও মোমবাতি জ্বালিয়ে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়। এরপর মাদারপুর ও জয়পুর গ্রাম থেকে কালো পতাকা, ব্যানার, ফেস্টুন এবং তীর-ধনুক নিয়ে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি গোবিন্দগঞ্জ-দিনাজপুর আঞ্চলিক মহাসড়ক প্রদক্ষিণ করে সাহেবগঞ্জের সমাবেশস্থলে গিয়ে শেষ হয়।
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ৬ নভেম্বর গোবিন্দগঞ্জের মহিমাগঞ্জে রংপুর চিনিকলের জমি থেকে সাঁওতালদের উচ্ছেদ করতে গিয়ে পুলিশ ও চিনিকলের শ্রমিক-কর্মচারীদের সঙ্গে তাদের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়। এই ঘটনায় অন্তত ৩০ জন সাঁওতাল আহত হন। আহতদের মধ্যে মঙ্গল মার্ডি, রমেশ টুডু এবং শ্যামল হেমব্রম পরবর্তীতে মৃত্যুবরণ করেন। সেই সময় সাঁওতালদের বসতবাড়িতে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছিল।




