কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্ট (কেএনএফ) নামক পাহাড়ি সশস্ত্র সংগঠনের প্রধান নাথান বম এবং আরও আটজনের বিরুদ্ধে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে মামলা দায়ের করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। বুধবার চট্টগ্রামের বায়েজিদ বোস্তামী থানায় এই মামলাটি করা হয়। বৃহস্পতিবার সিআইডির সদর দপ্তরের গণমাধ্যম শাখার বিশেষ পুলিশ সুপার মো. ছুফি উল্লাহ সংবাদমাধ্যমকে এই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মামলার এজাহারে অভিযুক্ত হিসেবে যাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে তারা হলেন— নাথানা লনচেও ওরফে নাথান বম (৪৯), মংহলাসিন মারমা ওরফে মং (৩৮), নিয়াজ হায়দার (৩৯), মো. গোলাম আজম (৪৭), সাহেদুল ইসলাম (২৭), মোহাম্মদ কামরুজ্জামান (৫৮), জামালুল ইসলাম (৪৫), মো. মতিউর রহমান (৪৩) এবং মো. তৌহিদুল ইসলাম (৩৮)।

ঘটনার সূত্রপাত ২০২৫ সালের ১৮ মে, যখন বায়েজিদ বোস্তামী থানা এলাকার একটি গুদাম এবং একটি পোশাক কারখানায় পুলিশ অভিযান পরিচালনা করে। সেই অভিযানে ২০ হাজার ৩০০ সেট ইউনিফর্ম উদ্ধার করা হয়, যা কেএনএফ-এর জন্য তৈরি করা হয়েছিল। ওই সময়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দায়ের করা হয়। পরবর্তীতে এই ইউনিফর্ম তৈরির পেছনে আর্থিক লেনদেনের উৎস এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিষয়ে বিস্তারিত অনুসন্ধান শুরু করে সিআইডি।

সম্প্রতি সিআইডির তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, কেএনএফ-এর পোশাক তৈরির প্রক্রিয়ায় অর্থের একটি স্পষ্ট প্রবাহ পাওয়া গেছে। তদন্তে দেখা গেছে, প্রায় ৪০ হাজার সেট ইউনিফর্মের কাপড় ক্রয় এবং সেলাই বাবদ মোট ১ কোটি ৬২ লাখ ৫৯ হাজার ৫০০ টাকা লেনদেন করা হয়েছে। সিআইডির দাবি, মোটা অঙ্কের অর্থের লোভে কারখানার মালিকরা এই অবৈধ পোশাক তৈরির কাজে লিপ্ত হয়েছিলেন।

বিশেষ পুলিশ সুপার মো. ছুফি উল্লাহ আরও জানান, এই তদন্ত প্রক্রিয়া এখনও চলমান। যদি ভবিষ্যতে নতুন কোনো তথ্য বা প্রমাণ পাওয়া যায় এবং অন্য কোনো ব্যক্তি কিংবা কারখানামালিকের সংশ্লিষ্টতা ধরা পড়ে, তবে তাদের বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।