নাটোর সদর উপজেলার পাইকেরদৌল গ্রামের বাসিন্দা ইমরান হোসেন (৩২) স্থানীয়ভাবে সেচপাম্প চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন। কৃষকদের কাছ থেকে অর্থের বিনিময়ে সেচের সুবিধা দেন তিনি। কিন্তু ২০১৬ সালে একটি ডাকাতি মামলায় আসামি হয়ে দশ বছর ধরে আদালতে হাজিরা দিতে হচ্ছে তাঁকে। অথচ ওই ডাকাতির ঘটনা ঘটার সময় তিনি কারাগারে ছিলেন।

জানা যায়, ২০১৬ সালের ২১ সেপ্টেম্বর রাজশাহীর দায়রা জজ আদালতে অস্ত্র মামলায় আত্মসমর্পণ করেন ইমরান। আদালত জামিন নামঞ্জুর করে তাঁকে কারাগারে পাঠায়। ওই বছরের ২২ নভেম্বর জামিনে মুক্ত হয়ে বাড়ি ফেরেন তিনি। এর মধ্যে ২০১৬ সালের ৪ নভেম্বর একটি বাসে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। অর্থাৎ ডাকাতির সময় তিনি কারাগারে ছিলেন।

তারপরও ২০১৭ সালের ১৯ জুলাই নাটোর সদর থানার তৎকালীন উপপরিদর্শক এস এম আবু সাদাদ তাঁকে ডাকাতি মামলায় গ্রেপ্তার করেন। পরে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা তৎকালীন এসআই আলী আকবর প্রায় দুই বছর তদন্ত শেষে ইমরানসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট জমা দেন। বর্তমানে আলী আকবর বগুড়ার পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) পরিদর্শক পদে কর্মরত।

এ বিষয়ে মুঠোফোনে আলী আকবর বলেন, তদন্তকালে ইমরান তাঁর বন্দিদশার কথা তাঁকে জানাননি। ঘটনার সময় কারাগারে থাকলে কীসের ভিত্তিতে চার্জশিট দিলেন — এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, অনেক দিন আগের ঘটনা, এখন মনে নেই।

ইমরান অবশ্য দাবি করেছেন, ডাকাতির ঘটনার সময় কারাবন্দী থাকার কথা তিনি তদন্তকারী কর্মকর্তাকে জানিয়েছিলেন। এ সংক্রান্ত কাগজপত্র জমা দিয়েই তিনি জামিন পেয়েছিলেন। তবু কীসের ভিত্তিতে তাঁর বিরুদ্ধে চার্জশিট দেওয়া হলো, তা তাঁর কাছে বোধগম্য নয়। তিনি বলেন, ১০ বছর ধরে মামলায় হাজিরা দিচ্ছেন, টাকা খরচ হচ্ছে। আরও আক্ষেপ করে বলেন, ছোটবেলা থেকে দাদি আনোয়ারা বিবির কাছে বড় হয়েছেন। মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তারের শোকে এক দিন পরই দাদি স্ট্রোক করে মারা যান। দাদির মরা মুখটাও দেখতে পারেননি তিনি।

এ অবস্থায় গত ২০ জুলাই পুলিশের রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি বরাবর অভিযোগ করেছেন ইমরান। মামলা থেকে অব্যাহতি এবং সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি। এর পরিপ্রেক্ষিতে নাটোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) উদয় কুমার সাহাকে প্রধান করে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মো. আশিক সাঈদ বলেন, অভিযোগটি নাটোর সদর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার তদন্ত করছেন। তদন্ত শেষে অভিযোগ প্রমাণিত হলে দায়ী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ইমরানের আইনজীবী রবিউল হোসেন বলেন, বর্তমানে মামলায় সাক্ষ্য গ্রহণ চলছে। সাক্ষ্য শেষে তাঁর মক্কেল নিশ্চিত খালাস পাবেন। তবে এই মানবেতর জীবনযাপনের জন্য দায়ী কর্মকর্তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া দরকার।