বিশ্বখ্যাত ক্রীড়া সরঞ্জাম প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান নাইকির ব্যবসায়িক পুনরুদ্ধারের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে তাদের সহযোগী ব্র্যান্ড কনভার্স। সাম্প্রতিক এক ত্রৈমাসিকে কনভার্সের বিক্রি প্রায় ২৮ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে, যা নাইকির সামগ্রিক বিক্রয় পতনের ২০ শতাংশের জন্য দায়ী। যদিও নাইকির মোট বিক্রিতে কনভার্সের অবদান মাত্র ২.৫ শতাংশ, তবুও এই ব্র্যান্ডের বর্তমান মন্দা প্রতিষ্ঠানটিকে গভীর সংকটে ফেলেছে। ফলে বিশ্লেষকদের মনে প্রশ্ন জাগছে, নাইকি কি তাদের পোর্টফোলিও থেকে কনভার্সকে পুরোপুরি সরিয়ে ফেলবে?
১১০ বছরের পুরনো এই ব্র্যান্ডটির প্রধান আকর্ষণ হলো 'চাক টেলর' হাই-টপ জুতা। তবে বর্তমান ফ্যাশন ট্রেন্ডের সাথে এর ভারী গঠন এবং শক্ত রাবারের সোল আর খাপ খাচ্ছে না। বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, কনভার্সের এই পতনের মূল কারণ হলো উদ্ভাবনের অভাব এবং শুধুমাত্র একটি নির্দিষ্ট মডেলের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা। বিসিই কনসাল্টিং-এর সিনিয়র অ্যাডভাইজার ম্যাট পাওয়েল জানান, ফ্যাশন ব্যবসায় কোনো কিছুই স্থায়ী হয় না; যখন একটি জনপ্রিয় মডেলের চাহিদা কমে যায়, তখন বিকল্প কিছু না থাকলে কোম্পানিটি বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়ে।
২০০৩ সালে ৩০৫ মিলিয়ন ডলারের বিনিময়ে কনভার্স কিনে নিয়েছিল নাইকি। ১৯০৮ সালে রাবার জুতা প্রস্তুতকারক হিসেবে যাত্রা শুরু করা এই ব্র্যান্ডটি ১৯১৬ সালে প্রথম বাস্কেটবল জুতা তৈরি করে এবং ১৯১৭ সালে 'অল-স্টার' মডেলটি বাজারে আনে। পরবর্তীতে ১৯৩২ সালে চাক টেলরের নকশায় এটি নতুন রূপ পায় এবং বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয়তা অর্জন করে। তবে সম্প্রতি এই জনপ্রিয়তা ধরে রাখতে ব্যর্থ হয়েছে তারা। ২০২৩ সালে যেখানে তাদের বিক্রি সর্বোচ্চ ২.৪৩ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছিল, গত অর্থবছরে তা কমে দাঁড়িয়েছে ১.১৭ বিলিয়ন ডলারে। এই ধারা অব্যাহত থাকলে ১০ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো তাদের বার্ষিক বিক্রি ১ বিলিয়ন ডলারের নিচে নেমে যেতে পারে।
বর্তমানে কনভার্স একটি কঠিন প্রতিযোগিতার মুখে পড়েছে। অন রানিং, নিউ ব্যালেন্স এবং হোকার মতো ব্র্যান্ডগুলো গ্রাহকদের পরিবর্তিত রুচির সাথে তাল মিলিয়ে নতুন পণ্য আনছে। অন্যদিকে, অ্যাডিডাস তাদের ক্লাসিক মডেলগুলোকে আধুনিক রূপ দিয়ে সফল হয়েছে, যা কনভার্সের জন্য উদাহরণ হতে পারে। বিএনপি পারিবাস ইকুইটি রিসার্চের বিশ্লেষক লরেন্ট ভাসিলিস্কু জানিয়েছেন, কোনো ব্র্যান্ডের চাহিদায় ৪৪ শতাংশ পতন আগে দেখা যায়নি। তাই নাইকি যদি তাদের চীন বাজার এবং জর্ডান ব্র্যান্ডের মতো অন্যান্য সমস্যা সমাধানে মনোযোগ দিতে চায়, তবে কনভার্স বিক্রি করে দেওয়া হতে পারে একটি যৌক্তিক সিদ্ধান্ত। উল্লেখ্য, এর আগে কোল হ্যান, আমব্রো এবং হার্লির মতো অর্জিত ব্র্যান্ডগুলো নাইকি বিক্রি করে দিয়েছে, বর্তমানে কেবল কনভার্সই অবশিষ্ট আছে।
এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় নাইকির সিইও এলিয়ট হিল জানিয়েছেন, তিনি কনভার্সকে পুনরায় আর্থিক সুস্থতার দিকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছেন। নাইকির একজন মুখপাত্র বলেছেন যে, কনভার্স এখনো তাদের পোর্টফোলিওর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আগামী মাসে বিনিয়োগকারী দিবস উপলক্ষে এই ব্র্যান্ডটিকে পুনরুজ্জীবিত করার বিস্তারিত পরিকল্পনা প্রকাশ করা হবে। বিশেষজ্ঞ ম্যাট পাওয়েলের মতে, যদি কনভার্স তাদের জুতার নকশায় পরিবর্তন এনে সেগুলোকে আরও হালকা ও আরামদায়ক করতে পারে, তবে তারা আবারও বাজারে রাজত্ব করতে পারবে।




