কক্সবাজার সদর উপজেলার খরুলিয়ায় মোটরসাইকেলে আসা একদল সশস্ত্র হামলাকারীর গুলিতে গুরুতর আহত হয়েছেন ব্যবসায়ী মাহমুদুল হক (৪৫)। শুক্রবার বেলা ৩টার দিকে সদর এলাকার লাল গোলাপ কমিউনিটি সেন্টারের সামনে এই দুঃসাহসিক হামলার ঘটনাটি ঘটে। কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলী এই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

আহত মাহমুদুল হকের বর্ণনা অনুযায়ী, তিনি ব্যক্তিগত মাইক্রোবাসে করে রামুর উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছিলেন। পথিমধ্যে তিনটি মোটরসাইকেলে করে আসা ছয়জন ব্যক্তি আচমকা তার গাড়ির গতি রোধ করে। এরপর তাকে লক্ষ্য করে পর্যায়ক্রমে তিনটি গুলি চালানো হয়। হামলাকারীরা একবার তার মাথায় গুলি করার চেষ্টাও করে, তবে কোনো কারণে অস্ত্র থেকে গুলি বের হয়নি। দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে দৌড়ে পালিয়ে যাওয়ায় তিনি প্রাণ বাঁচান। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং পরবর্তীতে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চট্টগ্রামে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

হামলাকারীদের শনাক্ত করেছেন মাহমুদুল। তার দাবি, হামলাকারীদের মধ্যে লিংকরোড এলাকার আবু নাছের, ওয়াজেদ আলী, কিতাব আলী এবং জায়েদ নামে চার ব্যক্তিকে তিনি চিনতে পেরেছেন। তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, এই হামলাকারীরা স্থানীয় ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতির অনুসারী।

ভুক্তভোগীর স্বজন মনির এবং অন্যান্য আত্মীয়দের দাবি, এই পুরো ঘটনার পেছনে রাজনৈতিক ইন্ধন রয়েছে। তারা অভিযোগ করেছেন, ঝিলংজা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য লিয়াকত আলীর প্ররোচনায় এই হামলা চালানো হয়েছে। এছাড়া ঘটনার পর স্থানীয়রা আবু নাছের নামের একজনকে আটক করলেও ঝিলংজা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি রাশেদ উল্লাহ তাকে মুক্ত করে দেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে এই গুরুতর অভিযোগগুলোর বিষয়ে জানতে রাশেদ উল্লাহর মোবাইলে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

ঘটনার বিষয়ে ওসি শেখ মোহাম্মদ আলী জানান, পুলিশ একটি মোটরসাইকেল জব্দ করেছে এবং জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালানো হচ্ছে। বিএনপি নেতাদের সম্পৃক্ততার বিষয়ে তিনি জানান, পুলিশ বর্তমানে তদন্ত করছে এবং ভুক্তভোগীর কাছ থেকে বিস্তারিত জবানবন্দি নেওয়া হচ্ছে।