কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার রঙ্গীখালী এলাকার দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলে তিনটি মৃতদেহ পড়ে থাকার খবর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এর আগে ওই এলাকায় মানবপাচারকারী চক্রের সঙ্গে যৌথ বাহিনীর এক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়। শুক্রবার সন্ধ্যায় বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে এই লাশের খবরের পাশাপাশি কিছু সংবাদমাধ্যম প্রতিবেদন প্রকাশ করলেও পুলিশ কর্তৃপক্ষ এখনও এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করতে পারেনি।

এই বিষয়ে টেকনাফ মডেল থানার তদন্ত পরিদর্শক সুকান্ত চৌধুরী জানান, তাদের কাছে এ ধরনের মেসেজ বা বার্তা পৌঁছেছে, তবে সেখানে সত্যিই লাশ আছে কি না কিংবা থাকলে তার সংখ্যা কত, তা নিয়ে তারা নিশ্চিত নন। অন্যদিকে, টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম লাশের তথ্যের কথা অস্বীকার করে জানান, ওই এলাকায় তাদের অভিযান এখনো অব্যাহত রয়েছে। কক্সবাজার জেলা পুলিশ সুপার এ এন এম সাজেদুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, লাশের খবরের কথা তারা শুনেছেন এবং পুলিশ বর্তমানে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।

ঘটনার প্রেক্ষাপট বর্ণনা করে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানায়, প্রায় ১২০ জন রোহিঙ্গা ও বাঙালি নাগরিককে ১৫-১৬ সদস্যের একটি সশস্ত্র মানবপাচারকারী দল জিম্মি করে রেখেছে—এমন সংবাদের ভিত্তিতে সেনাবাহিনী, বিজিবি এবং পুলিশের একটি সমন্বিত দল গহীন পাহাড়ে অভিযান চালায়। সেই অভিযানের সময় উভয় পক্ষের মধ্যে তীব্র গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এই সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে মো. তিতাস শেখ (২৮) নামে একজন সেনা সদস্য প্রাণ হারান। বর্তমানে পুরো এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনীর তৎপরতা চলছে।