জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের সাংবিধানিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন করা হয়েছে। বিচারপতি জে বি এম হাসান এবং বিচারপতি আজিজ আহমদ ভূঞার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ বুধবার এই আবেদনের শুনানি গ্রহণ করেন এবং পরবর্তী শুনানি আগামী রোববার পর্যন্ত মুলতবি করার সিদ্ধান্ত নেন।

২০২৬ সালে 'জুলাই গণ-অভ্যুত্থান (সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ) আইন' প্রণীত হয়, যার লক্ষ্য ছিল অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারীদের সুরক্ষা দেওয়া এবং সংশ্লিষ্ট দায় নির্ধারণ করা। এই আইনের বৈধতা ও সুরক্ষার ধরন নিয়ে প্রশ্ন তুলে গত ৩০ আগস্ট একটি রিট আবেদন দাখিল করেন মোহাম্মদ নূরুল হুদা ডিউক। উল্লেখ্য, তিনি মেজর (অব.) বজলুল হুদার ভাই, যার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর পরিবার হত্যার মামলায়।

আদালতে আবেদনকারীর পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন আইনজীবী এ এস এম শাহরিয়ার কবির এবং রাষ্ট্রপক্ষের প্রতিনিধিত্ব করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নূর মুহাম্মদ আজমী। শুনানির পর আইনজীবী শাহরিয়ার কবির বিস্তারিত ব্যাখ্যা প্রদান করেন। তিনি ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের ঘটনার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে জানান, তৎকালীন রাষ্ট্রপতি খন্দকার মোশতাক আহমদ একটি দায়মুক্তি অধ্যাদেশ (ইনডেমনিটি অর্ডিন্যান্স) জারি করেছিলেন, যা পরবর্তীতে আইনে রূপ নেয়। তবে ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এসে উক্ত দায়মুক্তি আইন বাতিল করে।

এই বাতিল প্রক্রিয়ার বৈধতা নিয়ে ১৯৯৮ সালের ২ এপ্রিল আপিল বিভাগ এক ঐতিহাসিক রায় প্রদান করেন। সেই রায়ে বলা হয়, ১৯৭৫ সালের দায়মুক্তি অধ্যাদেশটি বাতিল এবং ১৯৯৬ সালের দায়মুক্তি (বাতিল) আইনটি বৈধ, কারণ ওই অধ্যাদেশটিকে সংবিধানের অংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। আইনজীবী শাহরিয়ার কবিরের মতে, ২০২৬ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থান সুরক্ষা আইনটি কেবল সাধারণ আইনের মাধ্যমে কার্যকর করা হয়েছে, কিন্তু একে সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। তিনি যুক্তি দেন যে, সর্বোচ্চ আদালতের পূর্ববর্তী রায় অনুযায়ী, প্রকৃত দায়মুক্তি কেবল সাধারণ আইনের মাধ্যমে সম্ভব নয়, বরং তা সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করার মাধ্যমেই কার্যকর হতে পারে। এই আইনি প্রেক্ষাপট বিবেচনা করেই জুলাই যোদ্ধাদের জন্য সাংবিধানিক সুরক্ষার দাবি জানিয়ে রিটটি দায়ের করা হয়েছে।