যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি পোশাক বাজারে শীর্ষ দুই দেশের অবস্থানের পরিবর্তন ঘটেছে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত সময়ের তথ্যানুসারে, ভিয়েতনামের পর দ্বিতীয় বৃহত্তম পোশাক রপ্তানিকারক দেশের মর্যাদা হারিয়েছে বাংলাদেশ। এই সম্মানজনক স্থানটি এখন চীনের দখলে, আর বাংলাদেশ নেমে গেছে তৃতীয় স্থানে। যুক্তরাষ্ট্রের অফিস অব টেক্সটাইলস অ্যান্ড অ্যাপারেলস (অটেক্সা)-এর হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে। বর্তমানে চীন ও বাংলাদেশের রপ্তানির ব্যবধান দাঁড়িয়েছে ২৪ কোটি ডলারে। উল্লেখ্য যে, জুলাই মাস পর্যন্ত ভিয়েতনামের পর বাংলাদেশ দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল, তবে আগস্টের ಅಂಕಿ-সংඛ്യায় এই পরিবর্তন দেখা যায়।

অটেক্সার তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, চলতি বছরের প্রথম আট মাসে সামগ্রিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি পোশাক আমদানি ৭.৪২ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। এই সময়ে দেশটির ব্যবসায়ীরা মোট ৪ হাজার ৯০০ কোটি বা ৪৯ বিলিয়ন ডলারের পোশাক আমদানি করেছেন। তবে আমদানির পরিমাণের দিক থেকে পতন আরও বেশি, যা ৮.৯৮ শতাংশ। এর ফলে প্রতি বর্গমিটার পোশাকের গড় মূল্য ১.৭১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে এই সামগ্রিক মূল্যবৃদ্ধির বিপরীতে বাংলাদেশ থেকে রপ্তানি হওয়া পোশাকের গড় মূল্য কমেছে।

চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রে ৫৩৯ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানি করেছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪.৪৩ শতাংশ কম। পরিমাণের দিক থেকে বাংলাদেশ ১৭৬ কোটি বর্গমিটার পোশাক পাঠিয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় পৌনে ৩ শতাংশ কম। এছাড়া রপ্তানিকৃত পোশাকের গড় মূল্য ছিল ৩.০৭ ডলার প্রতি বর্গমিটার, যা আগের বছরের তুলনায় ১.৭৩ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।

বিশ্ববাজারের অন্যান্য দেশের চিত্র দেখলে দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে চীনের রপ্তানি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তারা ৫৬৩ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানি করলেও তা গত বছরের তুলনায় ২৯.৩৯ শতাংশ কমেছে। একইভাবে ভারতের রপ্তানি কমেছে ২৬.৪৪ শতাংশ এবং পাকিস্তানের রপ্তানি হ্রাস পেয়েছে ৩.৮৩ শতাংশ। বিপরীতে ইন্দোনেশিয়া ও কম্বোডিয়া থেকে রপ্তানি যথাক্রমে ২.৫৮ শতাংশ এবং ৬.৯১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে ভিয়েতনাম। তারা ১ হাজার ৯৮ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানি করেছে, যা সামান্য ০.৭৬ শতাংশ কম। ভিয়েতনামের পোশাকের গড় মূল্য ছিল ৩.৫৪ ডলার। অন্যদিকে, চীনের পোশাকের গড় মূল্য উল্লেখযোগ্যভাবে কমে ৯.৯৩ শতাংশ হ্রাস পেয়ে ১.৪৭ ডলারে নেমেছে, যা বাংলাদেশের পোশাকের মূল্যের প্রায় অর্ধেক। এছাড়া পাকিস্তানে রপ্তানি হওয়া বাংলাদেশি পোশাকের গড় মূল্য প্রতি বর্গমিটারে ২.৭৮ ডলার।