ইরান সংশ্লিষ্ট যুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে সামরিক সহায়তা দেওয়ার জন্য ডোনাল্ড ট্রাম্পের করা আহ্বান সরাসরি প্রত্যাখ্যান করল দক্ষিণ কোরিয়া। শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে দেশটির প্রেসিডেন্ট লি জে মিউং স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যের এই যুদ্ধে জড়ানোর উদ্দেশ্যে দক্ষিণ কোরিয়া কোনোভাবেই সেনা মোতায়েন করবে না। তিনি আরও নিশ্চিত করেন যে, এই সংঘাতের সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে কোনো ধরনের সামরিক সরঞ্জামও পাঠানো হবে না।

যদিও সরাসরি যুদ্ধে জড়াতে নারাজ, তবে মধ্যপ্রাচ্যের সমুদ্রসীমায় নৌ-চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিতে দক্ষিণ কোরিয়া আরও বড় কোনো ভূমিকা পালন করবে কি না, তা নিয়ে বর্তমানে পর্যালোচনা চলছে বলে উল্লেখ করেন প্রেসিডেন্ট লি। উল্লেখ্য, জলদস্যু দমনের লক্ষ্যে সোমালিয়ার উপকূলীয় এলাকায় দক্ষিণ কোরিয়ার নৌবাহিনীর একটি ইউনিট আগে থেকেই নিয়োজিত রয়েছে। লি জে মিউং বলেন, বাণিজ্যিক জাহাজ, অপরিশোধিত তেলের পরিবহন এবং নিজেদের নাগরিকদের সুরক্ষায় অন্যান্য দেশগুলো যে ন্যূনতম ভূমিকা পালন করছে, দক্ষিণ কোরিয়াও সেই পথ অনুসরণ করতে পারে।

অন্যদিকে, দক্ষিণ কোরিয়ার এই অবস্থানের কারণে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে সমালোচনা করে আসছেন। তিনি মনে করেন, ইরান যুদ্ধের বিষয়ে সিউলের সমর্থন যথেষ্ট নয়। এই টানাপোড়েনের প্রভাব পড়েছে দুই দেশের সামরিক সম্পর্কের ওপর; চলতি গ্রীষ্মে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে বড় আকারের যৌথ সামরিক মহড়ার সংখ্যা কমিয়ে দেওয়া হয়েছে, যা দক্ষিণ কোরিয়ার ভেতরে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।

যুদ্ধের পাশাপাশি উত্তর কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার কূটনৈতিক সম্পর্কের বিষয়েও কথা বলেন প্রেসিডেন্ট লি। তাঁর ধারণা, আগামী কয়েক মাসের মধ্যে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং-উনের মধ্যে বৈঠক হতে পারে, যদিও এর জন্য ব্যাপক সমন্বয়ের প্রয়োজন। তিনি জানান, ট্রাম্প ও কিম-এর মধ্যে সংলাপের পরিবেশ তৈরি করতে দক্ষিণ কোরিয়া মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে।

এদিকে, দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কিম জং-উনের সঙ্গে বৈঠকের জন্য ট্রাম্প তাঁর সহযোগীদের ওপর চাপ সৃষ্টি করছেন। তবে ট্রাম্পের এই আহ্বানে উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমগুলো এখন পর্যন্ত কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। সব মিলিয়ে, একদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক চাপ এবং অন্যদিকে উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে সংলাপের সম্ভাবনা—এই দুইয়ের মাঝে ভারসাম্য বজায় রেখে সতর্ক পথ বেছে নিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া।