পাকিস্তান সরকার এবং বৈশ্বিক প্রযুক্তি জায়ান্ট গুগলের সাম্প্রতিক চুক্তির ফলে সাধারণ নাগরিকদের ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান ‘ফ্রিডম নেটওয়ার্ক’। সম্প্রতি গুগল ও পাকিস্তান সরকারের প্রতি একটি খোলা চিঠি পাঠিয়ে সংস্থাটি তাদের এই উদ্বেগের কথা জানিয়েছে। পাকিস্তানভিত্তিক সংবাদমাধ্যম 'ডন'-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফ্রিডম নেটওয়ার্ক জানতে চেয়েছে যে, কোনো ধরনের নজরদারি ছাড়াই এই চুক্তির মাধ্যমে কীভাবে দেশটির নাগরিকদের ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা নিশ্চিত করা হবে।

উল্লেখ্য যে, গত ১৮ আগস্ট পাকিস্তানে নিজেদের প্রথম অফিস চালু করে গুগল এবং তার তিন দিন পরেই দেশটির সরকারের সঙ্গে একটি অংশীদারত্ব চুক্তিতে আবদ্ধ হয়। যদিও এই অগ্রগতির কথা স্বাগত জানিয়েছে ইসলামাবাদভিত্তিক সংস্থা ফ্রিডম নেটওয়ার্ক, তবে চুক্তির বিস্তারিত বিষয়গুলো গোপন রাখা নিয়ে তারা প্রশ্ন তুলেছে। সংস্থাটি জানতে চেয়েছে, সরকার এবং গুগলের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) বা চুক্তির যাবতীয় তথ্য কি প্রকাশ্যে আনা হবে? যদি কোনো নির্দিষ্ট অংশ গোপন রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়ে থাকে, তবে তা কার নির্দেশে এবং কোন আইনি কাঠামোর অধীনে করা হয়েছে, তাও জানতে চেয়েছে তারা।

বিশেষ করে ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত কনটেন্ট, মেটাডেটা কিংবা সরকারি ডেটাবেজে প্রবেশের সুযোগ নিয়ে কোনো অপ্রকাশিত প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে কি না, তা নিয়ে সংস্থাটি যথেষ্ট সন্দিহান। ফ্রিডম নেটওয়ার্ক প্রশ্ন করেছে, কোন পরিস্থিতিতে পাকিস্তান সরকার গুগল থেকে ব্যবহারকারীদের তথ্য দাবি করতে পারবে এবং প্রতিটি অনুরোধের ক্ষেত্রে কি যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া ও বিচারিক তদারকি অনুসরণ করা হবে? এছাড়া, যেসব অনুরোধ মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী বা অস্পষ্ট, গুগল কি তা প্রত্যাখ্যান করবে?

সাংবাদিকদের তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এই সংগঠন। জিমেইল, গুগল ড্রাইভ, ইউটিউব অ্যাকাউন্ট এবং সার্চ হিস্ট্রি কিংবা ছবির মতো সংবেদনশীল তথ্যে সরকারের প্রবেশাধিকার ঠেকাতে চুক্তিতে কোনো বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট করার দাবি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে গুগলের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে যে, কেবল সরকারি অনুরোধের ভিত্তিতেই যেন কোনো কনটেন্ট সরিয়ে ফেলা না হয়। বরং স্বচ্ছ আইনি মানদণ্ডের ভিত্তিতে তা মূল্যায়ন করা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে সিদ্ধান্তটি চ্যালেঞ্জ করার সুযোগ দেওয়া উচিত।

তথ্যের সংরক্ষণস্থল নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে ফ্রিডম নেটওয়ার্ক। তারা জানতে চেয়েছে, পাকিস্তানের ব্যবহারকারীদের ডেটা কি দেশের ভেতরেই সংরক্ষিত হবে নাকি বিদেশে রাখা হবে। এছাড়া, গুগল ও সরকারের মধ্যে কোনো অনানুষ্ঠানিক বা নথিবিহীন তথ্য আদান-প্রদানের ব্যবস্থা থাকা উচিত নয় বলে তারা মনে করে। সবশেষে, পাকিস্তানে মানবাধিকার ও গোপনীয়তা সংক্রান্ত নীতিমালা গুগল সঠিকভাবে মেনে চলছে কি না, তা যাচাই করার জন্য একটি স্বাধীন নিরীক্ষা প্রক্রিয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেছে সংস্থাটি, যা কেবল সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন হবে না।