যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে গরুর মাংসের আকাশচুম্বী দামের কারণ অনুসন্ধান করতে এবার বড় খুচরা বিক্রেতাদের দিকে নজর দিয়েছে দেশটির বিচার বিভাগ (Department of Justice বা DOJ)। ওয়ালমার্ট, আমাজন, কস্টকো, ক্রোগার, পাবলিকস, অ্যালবার্টসনস, আলডি এবং আহোল্ড ডেলহাইজ ইউএসএ—এই আটটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে ফেডারেল তদন্তকারীরা। গত ১ সেপ্টেম্বর একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে বিচার বিভাগ জানিয়েছে, গরুর মাংসের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে রাখা এখন তাদের জন্য একটি 'অগ্রাধিকার' বিষয়। তবে এই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট খুচরা বিক্রেতা বা বিচার বিভাগ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে মুদ্রাস্ফীতি ভোটারদের কাছে একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল ইস্যু। বিশেষ করে গরুর কিমা বা গ্রাউন্ড বিফ-এর মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামের ওপর ভিত্তি করে সাধারণ মানুষ মুদ্রাস্ফীতির প্রভাব বিচার করে। তাই দাম নিয়ন্ত্রণে আনতে ট্রাম্প প্রশাসন সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। এই তদন্তটি মূলত গত মে মাসে মাংস প্রক্রিয়াকরণ কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে শুরু হওয়া অ্যান্টিট্রাস্ট তদন্তের একটি সম্প্রসারিত রূপ। এর আগে নভেম্বর মাসে ট্রাম্প প্রশাসন অভিযোগ করেছিল যে, মাংস প্রক্রিয়াকরণ কোম্পানিগুলো গোপন আঁতাত ও মূল্য কারসাজির মাধ্যমে কৃত্রিমভাবে দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে।

মূল্য কমাতে ট্রাম্প প্রশাসন বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। ব্রাজিল থেকে আমদানিকৃত গরুর মাংসের ওপর ৪০ শতাংশ শুল্ক বাতিল করা হয়েছে এবং কোটার বাইরে অতিরিক্ত ৩ লাখ মেট্রিক টন মাংস আমদানির সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া আর্জেন্টিনা থেকেও মাংস আমদানি শুরু করা হয়েছে, যদিও স্থানীয় খামারিরা এতে রোগের ঝুঁকি এবং অকার্যকারিতার কথা বলে বিরোধিতা করেছেন। মেক্সিকোর গবাদি পশুর স্ক্রুওয়ার্ম পরজীবীর সংক্রমণের কারণে জুলাইতে আমদানি বন্ধ থাকলেও ২৪ আগস্ট থেকে তা পুনরায় চালু করা হয়েছে।

অন্যদিকে, মাংস প্রক্রিয়াকরণ শিল্প বর্তমানে চরম আর্থিক সংকটের মুখে। টাইসন কোম্পানি তাদের দুটি মাংস প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র বন্ধ করার এবং তৃতীয়টি বিক্রি করার ঘোষণা দিয়েছে, কারণ তাদের এই খাতের অপারেটিং লস দাঁড়িয়েছে ১৩ কোটি ৮০ লাখ ডলার। একইভাবে ব্রাজিলের জেবিএস কোম্পানি তাদের পেনসিলভেনিয়া প্ল্যান্টের কার্যক্রম বন্ধ করেছে এবং উত্তর আমেরিকার মাংস ব্যবসায় তারা ২৭ কোটি ৯০ লাখ ডলারের লোকসান করেছে। খামারিদের স্বাবলম্বী করতে ট্রাম্প প্রশাসন তাদের নিজস্ব প্রক্রিয়ায় মাংস প্রস্তুত করার অনুমতি দেওয়ার কথা বললেও, নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যবিধি সংক্রান্ত কঠোর নিয়মাবলির কারণে তা বাস্তবায়ন নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।

তবে কেবল ব্যবসায়িক কারসাজি নয়, মাংসের দাম বাড়ার পেছনে প্রাকৃতিক ও কাঠামোগত কারণও রয়েছে। ইউএস ডিপার্টমেন্ট অফ এগ্রিকালচার-এর তথ্যমতে, ১৯৫১ সালের পর এই বছরই যুক্তরাষ্ট্রের গবাদি পশুর সংখ্যা সর্বনিম্ন পর্যায়ে (৮ কোটি ৬২ লাখ) নেমে এসেছে। খামারের খরচ বৃদ্ধি এবং দীর্ঘস্থায়ী খরা এর প্রধান কারণ। এছাড়া গরুর প্রজনন ও বৃদ্ধির দীর্ঘ জৈবিক চক্রের কারণে দ্রুত সরবরাহ বাড়ানো সম্ভব হয় না। ওকলাহোমা স্টেট ইউনিভার্সিটির কৃষি ব্যবসা বিশেষজ্ঞ ডেরেল পিল মনে করেন, খামারিরা বাজারের এই স্বাভাবিক চক্রটি বোঝেন এবং তারা চান বাজার যেন কোনো বাইরের হস্তক্ষেপ ছাড়াই স্বাভাবিকভাবে চলতে পারে।