যুক্তরাজ্যের গ্লস্টারশায়ারে অবস্থিত আরএএফ ফেয়ারফোর্ড মার্কিন বিমানঘাঁটির সাম্প্রতিক ঘটনায় ইরানের সংশ্লিষ্টতা থাকার জোরালো বিশ্বাস ব্যক্ত করেছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম। বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, প্রাথমিক ইঙ্গিত অনুযায়ী এই ঘটনার পেছনে ইরানের কোনো না কোনো ভূমিকা ছিল। তবে বিস্তারিত তথ্য এই মুহূর্তে প্রকাশ না করলেও তিনি বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত জটিল ও গুরুতর পুলিশি তদন্তের আওতাভুক্ত এবং উপযুক্ত সময়ে আরও তথ্য জানানো হবে।

ঘটনার সূত্রপাত গত রোববার রাতে, যখন আরএএফ ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটির দিকে তিনটি সন্দেহজনক ভ্যান অগ্রসর হতে দেখে পুলিশ। এর পরিপ্রেক্ষিতে ঘাঁটি থেকে প্রায় ৩.২ কিলোমিটার দূরে উইলফোর্ড এলাকায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রস্তুতির অভিযোগ আনা হয়েছিল। তবে পরবর্তীতে এই পাঁচজনকে জামিনে মুক্তি দেওয়া হলে তা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই জামিন দেওয়ার সিদ্ধান্তে বিস্ময় প্রকাশ করে জানান, তিনি হলে তাঁদের মুক্তি দিতেন না। অন্যদিকে, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করেন যে, মুক্তি দেওয়া হলেও তাঁদের ওপর অত্যন্ত কঠোর শর্ত আরোপ করা হয়েছে এবং নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ তাঁদের প্রতিটি পদক্ষেপ নিবিড়ভাবে তদারকি করছে।

এই অভিযোগের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মন্তব্য করেন যে, যুক্তরাজ্য ভুল পথে হাঁটছে। তাঁর মতে, কথিত সন্ত্রাসীদের জামিনে ছেড়ে দেওয়ার বিষয়টিই প্রকৃত সত্য বলে দেয়।

এর আগে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ফক্স নিউজকে জানিয়েছিলেন, এই ঘটনায় বিদেশি শক্তির সংশ্লিষ্টতা স্পষ্ট। তিনি উল্লেখ করেন, ইরান বিশ্বজুড়ে মার্কিন স্বার্থের বিরুদ্ধে হামলার হুমকি দিয়ে আসছে, আরএএফ ফেয়ারফোর্ডের ঘটনাটি সেই বাস্তবতারই অংশ।

যুক্তরাজ্য সরকার এই পুরো পরিস্থিতি মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে সপ্তাহব্যাপী আলোচনা চালিয়েছে এবং তদন্তের অগ্রগতি তাঁদের অবহিত করেছে। প্রধানমন্ত্রী বার্নহ্যাম দেশের নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর তদন্ত প্রক্রিয়ার ওপর পূর্ণ আস্থা প্রকাশ করেছেন। উল্লেখ্য, গ্রেপ্তারকৃত পাঁচজনের মধ্যে একজন নিজেই জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করেছিলেন বলে জানা গেছে।

আরএএফ ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটিটি দীর্ঘকাল ধরে মার্কিন সামরিক বাহিনী ব্যবহার করে আসছে। এটি ফেয়ারফোর্ড শহরের দক্ষিণ দিকে প্রায় ৬.৪ কিলোমিটার দূরে কটসওল্ডসে অবস্থিত। স্নায়ুযুদ্ধের সময় থেকে শুরু করে ১৯৯১ সালের উপসাগরীয় যুদ্ধ এবং ২০০৩ সালে ইরাক আক্রমণের সময় বি-৫২ বোমারু বিমান মোতায়েনের জন্য এই ঘাঁটি ব্যবহৃত হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধেও এই ঘাঁটি থেকে মার্কিন বোমারু বিমান হামলার অনুমতি দিয়েছে ব্রিটেন। এর আগে ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) সতর্ক করেছিল যে, ফেয়ারফোর্ড থেকে হামলা চালানো হলে তারা পাল্টা ব্যবস্থা নেবে। এই ঘটনার পর পূর্ব ইংল্যান্ডের আরএএফ লেকেনহিথসহ যুক্তরাজ্যের অন্যান্য মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে এবং সেখানে সাঁজোয়া যান ও সেনাসদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।