যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকোত্তর বা পিএইচডি পর্যায়ে উচ্চশিক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হলো গ্র্যাজুয়েট রেকর্ড এক্সামিনেশন বা জিআরই। এই চ্যালেঞ্জিং পরীক্ষায় ৩৪০-এর মধ্যে পূর্ণ নম্বর ৩৪০ অর্জন করেছেন তানভীর তানমিদ, যিনি বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের বেটস কলেজে অর্থনীতি বিষয়ে পড়াশোনা করছেন। কোয়ান্টিটেটিভ এবং ভার্বাল রিজনিং—উভয় অংশেই তিনি সর্বোচ্চ ১৭০ নম্বর পেয়েছেন।

তানভীরের মতে, তাঁর এই অভাবনীয় সাফল্যের মূল মন্ত্র ছিল 'ভলিউম' বা প্রচুর পরিমাণে চর্চা করা। তিনি বিশ্বাস করেন, পরীক্ষার হলে কোনো প্রশ্ন যেন একদম নতুন মনে না হয়, সেজন্য বিপুল সংখ্যক সমস্যা সমাধান করা এবং বিভিন্ন ধরনের প্রশ্নের ধরন সম্পর্কে পরিচিত হওয়া প্রয়োজন। তাঁর লক্ষ্য ছিল প্রশ্নের ধরনগুলোকে এতটাই আয়ত্ত করা, যেন পরীক্ষার সময় কোনো আতঙ্ক তৈরি না হয়। তবে তিনি সতর্ক করেছেন যে, কেবল অনেক প্রশ্ন সমাধান করলেই হবে না, বরং প্রতিটি ভুলের গভীরে গিয়ে বিশ্লেষণ করা জরুরি। তিনি তাঁর ভুলগুলোকে ধারণাগত সমস্যা, অসাবধানতা এবং সময় ব্যবস্থাপনার ত্রুটি—এই তিন ভাগে ভাগ করে একটি 'এরর লগ' বা ভুল তালিকা তৈরি করেছিলেন, যা তাঁকে বারবার করা ভুলগুলো কমাতে সাহায্য করেছে।

কোয়ান্টিটেটিভ রিজনিং বা গণিত অংশের প্রস্তুতির ক্ষেত্রে তানভীর প্রথমে পাটিগণিত, বীজগণিত, জ্যামিতি, সম্ভাবনা এবং পরিসংখ্যানের মতো মৌলিক বিষয়গুলোর ধারণা পরিষ্কার করেছিলেন। এরপর তিনি 'টাইমড প্র্যাকটিসে' গুরুত্ব দেন, যেখানে প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময় ধরে ৬০ থেকে ৭০টি প্রশ্ন সমাধান করতেন। বিশেষ করে জ্যামিতি এবং ওয়েটেড অ্যাভারেজের মতো দুর্বল জায়গাগুলোতে তিনি আলাদাভাবে নজর দিয়েছিলেন। তাঁর লক্ষ্য ছিল গতি এবং নির্ভুলতার মধ্যে একটি ভারসাম্য বজায় রাখা, যাতে দ্রুত সমাধান করার পাশাপাশি ভুল হওয়ার সম্ভাবনা সর্বনিম্ন থাকে।

অন্যদিকে, ভার্বাল রিজনিংয়ের জন্য তিনি কেবল শব্দ মুখস্থ করার প্রথাগত পদ্ধতির বাইরে গিয়ে শব্দভাণ্ডারের প্রয়োগের ওপর জোর দিয়েছেন। প্রায় ২ হাজার শব্দ আয়ত্ত করার পাশাপাশি তিনি বাক্যের যুক্তি, লেখকের উদ্দেশ্য এবং তথ্যের বিশ্লেষণ ক্ষমতা বাড়ানোর চেষ্টা করেছেন। টেক্সট কমপ্লিশন এবং সেন্টেন্স ইকুইভ্যালেন্সের ক্ষেত্রে বাক্যের ইতিবাচক বা নেতিবাচক দিক বুঝতে পারা এবং রিডিং কম্প্রিহেনশনের ক্ষেত্রে অনুচ্ছেদের মূল কথাটি সঠিকভাবে ধরতে পারাই ছিল তাঁর কৌশল।

প্রস্তুতির শেষ পর্যায়ে তিনি নিয়মিত মক টেস্টের ওপর নির্ভর করেছেন। শুরুতে তাঁর স্কোর ৩২৮ থেকে ৩৩০-এর মধ্যে থাকলেও, প্রতিটি পরীক্ষার পর নিজের দুর্বলতা বিশ্লেষণ করায় তা ধীরে ধীরে পূর্ণ নম্বরের দিকে এগিয়ে যায়। রিসোর্সের ক্ষেত্রে তিনি অফিশিয়াল উপকরণের ওপর সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন, কারণ এতে পরীক্ষার প্রকৃত ভাষা ও ধরন ফুটে ওঠে। এছাড়া তাঁর পূর্বের আইবিএ এবং স্যাটের পরীক্ষার অভিজ্ঞতাও এই প্রস্তুতিতে ভিত্তি হিসেবে কাজ করেছে। তবে চূড়ান্ত সাফল্যের পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে নির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে করা কঠোর অনুশীলন এবং ভুল থেকে শেখার মানসিকতা।