নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলায় ঝাড়ফুঁকের প্রলোভন দেখিয়ে পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে জামায়াতের সাবেক এক নেতার বিরুদ্ধে। এই গুরুতর অপরাধের অভিযোগে পুলিশ অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তির নাম মো. আলমগীর হোসেন ফরাজী (৪৫), তিনি পশ্চিম খানপুর গ্রামের মৃত ইউনুছ আলীর পুত্র। স্থানীয়ভাবে তিনি কবিরাজি ওষুধ বিক্রির পাশাপাশি ঝাড়ফুঁকের কাজ করতেন।
বেগমগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামসুজ্জামান জানান, গত শনিবার রাতে শরীফপুর ইউনিয়নের পশ্চিম খানপুর গ্রামে তাঁর বাড়ি থেকে আলমগীরকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর রোববার তাঁকে নোয়াখালী নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হলে বিচারক মোহাম্মদ খোরশেদুল আলম শিকদার তাঁর জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন এবং তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
পুলিশি তদন্ত ও অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১৩ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় ওই শিশু শিক্ষার্থী মাথাব্যথার চিকিৎসার জন্য আলমগীরের দোকানে গিয়েছিল। সেখানে ঝাড়ফুঁক করার কথা বলে তাকে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, এই ঘটনা কাউকে জানালে মেরে ফেলার হুমকিও দেওয়া হয়েছিল বলে জানা গেছে। পরবর্তীতে অসুস্থ বোধ করায় শিশুটি পরিবারের সদস্যদের সবকিছু খুলে বলে এবং তাঁর বাবা থানায় মামলা দায়ের করেন।
অভিযুক্ত আলমগীরের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা প্রসঙ্গে শরীফপুর ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি মোজাম্মেল হোসেন জানান, আলমগীর ২০২২ সাল পর্যন্ত ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের জামায়াতে বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করলেও বর্তমানে তিনি আর দলীয় কোনো কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত নন।
ঘটনার পর শিশুটিকে শারীরিক পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে ওসি শামসুজ্জামান নিশ্চিত করেন। এছাড়া সংশ্লিষ্ট আদালতে শিশুটির জবানবন্দি রেকর্ড করার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।




